Main Menu

কানাইঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের তীরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় কোন প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী খালপার গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী সুহাদা বেগম (৩৮) এর সাথে দীর্ঘদিন থেকে জা জিলেখা বেগমের বাড়ির জমিজমা সহ পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী খালপার গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী সুহাদা বেগমের সঙ্গে (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) জিলেখা বেগমের পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এ বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

নিহতের ছেলে হাফেজ রেজওয়ান আহমদ জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে চাচী জিলেখা বেগম ও চাচাতো ভাই ফয়ছল আহমদ তার মাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। গত বুধবার চাচী জিলেখা ও তার ছেলে ফয়ছল পারিবারিক বিরোধের জেরে তার মা সুহাদা বেগমকে গালিগালাজ করে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়।

তিনি আরও জানান, পরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তিনি ও তার ভাই কামরান আহমদ স্থানীয় মসজিদে জুমআর নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে ছেলেরা দেখতে পান পাকা ঘরের স্টিলের দরজা ভিতর দিকে লাগানো। মাকে বার বার ডাকার পর দরজা না খোলায় রান্না ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় তার মা সুহাদা বেগমের মরদেহ বিছানার উপরে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন রেজওয়ান।

মায়ের মরদেহ তীরের সঙ্গে ঝুলতে দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হোন। এ সময় তারা দেখতে পান সুহাদা বেগমের গলায় শাড়ি প্যাচানো। তবে নিহতের দু’পায়ের হাটু খাটের বালিশের সাথে লেগে ছিল বলে জানান নিহতের ছেলে রেজওয়ান। এতে করে সুহাদা বেগমের মৃত্য নিয়ে রহস্যের দেখা দেয়।

তিনি জানান, প্রতিবেশিরা সবাই আসলেও জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল আহমদ সুহাদার মরদেহ দেখতে আসেনি বলে জানায় রেজওয়ান। পরে সুহাদার আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে ছুটে গেলে জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল একেক সময় একেক কথা বলতে থাকে।

পরে এ ঘটনা পুলিশকে জানানো হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানাইঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সুহাদা বেগমের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেন।

Manual3 Ad Code

নিহত সুহাদার ছেলে রেজওয়ান, ভাই দেলোয়ার ও মামাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন সহ অনেকে অভিযোগ করে জানান, জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধের জেরে জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল আহমদ, মেয়ে নাজমিন আক্তার ও মেয়ের জামাই আলী আহমদ জুমআর নামাজের সময় পরিকল্পিত ভাবে সুহাদাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ শাড়ি দিয়ে গলায় প্যাচিয়ে তীরের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। এ ঘটনায় উল্লেখিত ৪ জনকে আসামী করে গত রবিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ অভিযোগটি আমলে নেয়নি। পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে বলে জানান।

সুহাদা বেগমের স্বামী সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম জানান, তার স্ত্রীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এটি কোন অবস্থায় আত্মহত্যা নয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল, মেয়ে নাজমিন ও মেয়ের জামাই আলী আহমদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

থানায় কোন প্রতিকার না পেয়ে সুহাদা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করবেন বলে তার মামাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন সহ পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মরদেহ উদ্ধারকারী কানাইঘাট থানার এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, সুহাদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন কিনা বা তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা এখনও বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Manual2 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code