সিলেট নগরীতে ধানের শীষের সমর্থনে গণমিছিল
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রচারণার শেষ গণমিছিল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। জনতার বাঁধভাঙা জোয়ারে সিলেটে স্মরণকালের সবচেয়ে বৃহৎ মিছিল হয়েছে। উচ্ছ্বাস আর আনন্দের মিশেলে সিলেট নগরীর কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল এই গণমিছিল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে শুরু হয় মিছিল।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তবে সব ছাপিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সবার দৃষ্টি কাড়ে। মিছিল শেষে খন্দকার মুক্তাদির নিজের বক্তব্যে বলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, বরঞ্চ এ এলাকার মানুষের দায়িত্ব নেওয়ার জন্যই ভোটের মাঠে নেমেছেন।
আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থান করে দেখা গেছে, যোহরের পর থেকেই একের পর এক খন্ড খন্ড মিছিল এসে জড়ো হতে থাকে মাঠে। নগরীর পাড়া, মহল্লা, ওয়ার্ড থেকে আসা মিছিলের স্রোতে লোকারণ্য হয়ে পড়ে বিশাল আলিয়া ময়দান। মূল মিছিল শুরুর আগে থেকেই বিএনপি ও ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এ ময়দান। বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হয় গণমিছিল। মিছিলে বেশ কয়েকটি পিকআপও ছিল, যেগুলোতে নেতাকর্মীরা দেশ ও দলের পতাকাসহ নানান সাজে সজ্জিত ছিলেন। একটি পিকআপে ছিলেন খন্দকার মুক্তাদির। মিছিল নগরীর চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্টপয়েন্ট, বন্দরবাজার, নাইওরপুল, সোবহানীঘাট হয়ে উপশহপর পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলটি যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন সর্বস্তরের নগরবাসী হাত নেড়ে, হাততালি দিয়ে খন্দকার মুক্তাদিরকে শুভেচ্ছা জানান। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, বিপণিবিতান থেকে সবাই বেরিয়ে এসে স্বাগত জানান তাঁকে। এ সময় খন্দকার মুক্তাদিরও হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছার জবাব দেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি উপশহর পয়েন্টে পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘন্টারও বেশি সময় লাগে।
মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আজকের এই শেষ প্রচারণা মিছিল শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি সিলেটবাসীর অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের চূড়ান্ত বার্তা। আপনাদের চোখে আমি যে ভালোবাসা, যে আশা দেখছি তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ভালোবাসা আমাকে দায়িত্ববান করে, সাহসী করে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। উন্নয়নের নামে হয়েছে লোক দেখানো কাজ, মানুষের কথা শোনার কেউ ছিল না। কিন্তু আজ সিলেট-১ আসনের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর নয় অবহেলা, আর নয় জবাবদিহিহীন রাজনীতি। এবার ভোট হবে সত্য, স্বাধীনতা, ন্যায়ের ও গণতন্ত্রের পক্ষে।‘
খন্দকার মুক্তাদির আরও বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি মানুষের আশা, সংগ্রাম আর অধিকার আদায়ের প্রতীক। এই ধানের শীষের মধ্যেই রয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের স্বপ্ন, তরুণদের ভবিষ্যৎ আর দুখিনী মায়ের চোখের জল মোছার অঙ্গীকার। বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি নির্বাচনের দিন নয়, এটি অন্যায়, অপপ্রচার আর স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার দিন। ভয় নয়, লোভ নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। নিজের ভোট নিজে দেবেন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবেন, সিলেট মাথা নত করে না।‘
আবেগপ্রবণ হয়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ক্ষমতা চাইতে আসিনি, আপনাদের পাশে থাকতে এসেছি। বিগত দিনগুলোতে যেভাবে আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামী দিনগুলোতে ঠিক সে ভাবে আপনাদের পাশে থাকবে। ইনশা আল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে সিলেট-১ আসনে নতুন ভোরের সূচনা হবে।’
মিছিলে শেষে উপশহর পয়েন্টে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Related News
নির্বাচনে মানতে হবে সিলেট পুলিশের যেসব নির্দেশনা
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হতেRead More
‘সিলেট-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন’
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের ব্যবসায়িকRead More



Comments are Closed