Main Menu

ঢাকায় বাসার ভেতরে পড়েছিল একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১১ এর ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্প এলাকার একটি বাসা থেকে ২ সন্তান ও তাদের মা-বাবার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির (Criminal Investigation Department) ক্রাইম সিন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

Manual6 Ad Code

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করি। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এরপর মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে এই ট্র্যাজেডির নেপথ্যে উঠে এসেছে চরম আর্থিক সংকটের এক কালো চিত্র। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পরিবারটি গত কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ ঋণের মধ্যে ডুবে ছিল। পাওনাদারদের চাপ এবং দিন দিন বাড়তে থাকা দেনা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

Manual4 Ad Code

ধারণা করা হচ্ছে, দারিদ্র্য আর ঋণের বোঝা সইতে না পেরে চরম হতাশায় এই পরিবারটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবে এটি কি কেবলই আত্মহত্যা, নাকি সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা-বাবা নিজেরা প্রাণ দিয়েছেন—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি এলাকায় শান্ত হিসেবেই পরিচিত ছিল। তবে গত কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে এক ধরনের বিষণ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এক প্রতিবেশী ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমরা জানতাম তারা বিপদে আছে, কিন্তু এভাবে তারা সবাই চলে যাবে তা কখনো কল্পনা করিনি।

Manual7 Ad Code

এই ঘটনাটি বর্তমান সমাজের এক গভীর ক্ষতকে সামনে নিয়ে এসেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যখন ঋণের জালে আটকা পড়ে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভাব স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা মানুষকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

একটি ছোট ঘর, একগুচ্ছ স্বপ্ন আর শেষ পর্যন্ত চারটি নিথর দেহ—মিরপুরের এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল অভাবের তাড়নায় মানুষ কতটা অসহায় হতে পারে। একটি পরিবার কেন সম্মিলিত আত্মহত্যার পথ বেছে নিল, তার সঠিক কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

 

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code