Main Menu

ইরানে একইদিনে দুই শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে একইদিনে পৃথক দুই শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের পর ওইদিনই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরেক শহর আহভাজেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সবশেষ ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্যাস লিক থেকেই এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ ও হুমকির মধ্যে এই পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজমান উদ্বেগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। খবর বিবিসির।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরানের উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বন্দর আব্বাসে একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহেরকে জানিয়েছেন এক স্থানীয় কর্মকর্তা। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে আরেকটি বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় তেহরান টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে।

বন্দর আব্বাসের ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, মোআল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় অবস্থিত আটতলা একটি ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দুটি তলা ধ্বংস হয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক যানবাহন ও দোকান।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকাত বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিক হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। মেহের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমার সহকর্মীরা বিস্তারিত তথ্য জানাবেন’। আঞ্চলিক কর্মকর্তা মেহরদাদ হাসানজাদেহ মেহেরকে জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

Manual5 Ad Code

অন্য বিস্ফোরণটি ঘটে ইরাক সীমান্তবর্তী আহভাজ শহরের কিয়ানশাহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে। তেহরান টাইমস জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Manual8 Ad Code

উল্লেখ্য, বন্দর আব্বাস ইরানের নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল। এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো এমন এক সময় ঘটল যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বন্দর আব্বাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরণের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘কথা বলছে’। তবে, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ ব্যাপারে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে মিত্র দেশগুলোকেও সবকিছু জানানো সম্ভব নয়। দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কি না, না হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখা হবে। সেখানে আমাদের একটি বড় নৌবহর যাচ্ছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনও সংঘাতই দুই দেশের বা পুরো অঞ্চলের স্বার্থে ভালো কিছু নয়। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনও যুদ্ধ চায়নি এবং কোনোভাবেই যুদ্ধ চায় না।’

Manual2 Ad Code

এছাড়া, শনিবার তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে অঞ্চলের উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। লারিজানি এর আগের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তেহরান প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কখনোই আলোচনার বিষয় হবে না।

Manual7 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code