হবিগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, তারপর ‘জিনের গল্প’
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে ‘জিনের কাজ’ বলে অপপ্রচার চালিয়ে মূল অপরাধ আড়াল করার চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে। মাধবপুর উপজেলার আদাঊর ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার মেয়ে মৌজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা আক্তার (১৪) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ঘটনার পর স্থানীয় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এটি ‘জিনের মাধ্যমে খুন’ বলে এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ভয়ভীতি ও কুসংস্কারের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকেও এই গল্প বিশ্বাসে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
নিহতের পরিবার ছিল চরম দরিদ্র। সুলতানার বাবা শহীদ মিয়া মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মা রেহেনা বেগম কন্যা হারানোর শোকে আজও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
রেহেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমি কখনোই জিনের গল্প বিশ্বাস করিনি। আমার মেয়ে স্বপ্নে এসে বারবার বলেছে— মা, আমাকে জিন মারেনি, পাশের লোকেরাই আমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। সে আমাকে সাংবাদিকদের কাছে সত্য বলার অনুরোধ করেছে।
জিনের অপপ্রচার বিষয়টি তৎকালীন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের নজরে এলে পুলিশ উদ্যোগ নিয়ে মরদেহ পুনরায় পোস্টমর্টেম করায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য। পুলিশের মামলায় প্রতিবেশী দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মেলে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের হুমকি ও চাপের মুখে মামলাটি আর এগোয়নি। নিহত কিশোরীর মা-বাবাকে মামলা তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হন। ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আপোষনামা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো হয়রানির শিকার হয়ে নিহতের বাবা শহীদ মিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। হয়রানি মামলা হিসেবে এফআইআর নম্বর–১০৭ দায়ের হলে তিনি দীর্ঘদিন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়ে পলাতক জীবনযাপন করেন।
রেহেনা বেগম বলেন, আমরা মামলা করেই আজ ফেরারি। রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দেয়নি। তবুও আমরা ন্যায়বিচার চাই।
শহীদ মিয়া বলেন, মামলা করাই আমাদের জন্য অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নিজেই উল্টো মামলায় পলাতক ছিলাম। আমার মেয়ের বিচার রাষ্ট্র করতে পারেনি।
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, হবিগঞ্জে এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা আর হতে পারে না। ধর্ষণ ও হত্যাকে ‘জিনের কাজ’ বলে চালিয়ে দেওয়া এরপর ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো মামলায় হয়রানি—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা। বিষয়টি নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব খান জানান, বিষয়টি অনেক আগের। ভিকটিম পরিবারের কোন নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।
Related News
হবিগঞ্জে মোটরসাইকেল-টমটমের সংঘর্ষে যুবক নিহত
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষেRead More
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, ১০ গ্রাম প্লাবিত
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীরRead More



Comments are Closed