বাংলাদেশসহ সব দেশের নাগরিকের জন্য কুয়েতের বড় দুঃসংবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় বাংলাদেশসহ বিদেশি সব নাগরিকের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে কুয়েত সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে ইকামা নবায়ন, ভিসা শর্ত এবং নির্বাসন সংক্রান্ত বিধানে কঠোরনীতির পাশাপাশি আবাসন (ইকামা), ভিজিট ভিসা এবং নির্ভরশীলদের স্পনসর ফিসহ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ফি বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২২ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত সরকারের নতুন এ আইন দেশটিতে বসবাসকারী প্রবাসীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইকামার মেয়াদ এখন থেকে আর পাসপোর্টের মেয়াদের সঙ্গে জড়িত নয়। অর্থাৎ পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকলেও ইকামা নবায়ন করা যাবে। তবে, আবাসনের জন্য আবেদনকারীর পাসপোর্টে অন্তত ছয় মাসের বৈধতা থাকা বাধ্যতামূলক।
সংস্কারকৃত নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ আবাসিক ইকামার সর্বোচ্চ মেয়াদ পাঁচ বছর। আর কুয়েতি নারী ও সম্পত্তির মালিকদের বিদেশি সন্তানদের জন্য এই মেয়াদ ১০ বছর এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইকামা নবায়নের ফিও পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। নতুন ফি কাঠামোতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মী, বিদেশি ছাত্র এবং ধর্মযাজকদের জন্য ইকামা নবায়ন ফি ২০ দিনার; বিনিয়োগকারী ও রিয়েল এস্টেট মালিকদের জন্য বছরে ৫০ দিনার।
এ ছাড়া, স্ব-স্পনসররশিপ (ধারা ২৪) ইকামার জন্য প্রথমবারের মতো ফি ধার্য করা হয়েছে, যা বছরে ৫০০ দিনার।
অন্যদিকে, ভিজিট ভিসার ফি সব ক্ষেত্রেই ১০ দিনার করা হয়েছে। সাধারণ ভিজিট ভিসার মেয়াদ তিন মাস, যা নবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এক বছরের জন্য বৈধ থাকবে, তবে প্রতিবার অবস্থান সর্বোচ্চ এক মাস।
এবার অবশ্য ভিজিট ভিসা থেকে ইকামায় রূপান্তর সহজ করা হয়েছে। সরকারি ভিজিট ভিসায় আগত বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক, অনুমোদিত পেশাজীবী এবং পারিবারিক ভিজিট ভিসায় আগতদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে রূপান্তর সম্ভব। পারিবারিক ভিসার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতনসীমা রাখা হয়েছে ৮০০ দিনার। স্বামী–স্ত্রী ও সন্তানদের স্পন্সর করতে হলে প্রবাসীর মাসিক আয়ও হতে হবে কমপক্ষে ৮০০ দিনার। তবে শিক্ষক, প্রকৌশলী, নার্স, ইমাম, সাংবাদিক, ফার্মাসিস্ট, সরকারি গবেষক ও ক্রীড়া কোচসহ কিছু পেশাকে এই শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নির্ভরশীল ফি-তেও বড় পরিবর্তন এসেছে। স্ত্রী-স্বামী ও সন্তানের জন্য বছরে ২০ দিনার, বিনিয়োগকারী ও ধর্মযাজকদের নির্ভরশীলদের জন্য ৪০ দিনার, স্ব-স্পন্সরদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ১০০ দিনার এবং পিতা–মাতা বা অন্যান্য নির্ভরশীলদের ফি ২০০ দিনার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ দিনার করা হয়েছে।
নতুন আইনে গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে— কুয়েতি পরিবারে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ জন এবং প্রবাসী পরিবারে সর্বোচ্চ ২ জন। কুয়েতিদের জন্য গৃহকর্মীর নবায়ন ফি বছরে ১০ দিনার হলেও প্রবাসীদের জন্য তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ দিনার। এ ছাড়া, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করলে ফি বেড়ে যাবে বহুগুণ।
এ ছাড়া, ইকামা বৈধ থাকলেও প্রবাসীদের নির্বাসনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ের উৎস না থাকা, স্পনসরের অনুমতি ছাড়া অন্যত্র কাজ করা, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়া বা জনস্বার্থ-জননিরাপত্তার কারণে মন্ত্রীর নির্দেশে যেকোনো প্রবাসীকেই নির্বাসন করা যেতে পারে।
Related News
এক রাতে ৪০ জনের কুপ্রস্তাব পেলেন ভারতীয় নারী পুলিশ কমিশনার!
Manual6 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শহরের রাস্তায় সাধারণ নারীরা কতটা নিরাপদ তা সরেজমিনে যাচাইRead More
এবার যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে ইরানে গেল তিন ট্যাংকার
Manual2 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের তিনটি খালি তেলের ট্যাংকারRead More



Comments are Closed