Main Menu

পরকীয়া সন্দেহে প্রেমিকের স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে দিলেন বাংলাদেশি নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় প্রেমিকের গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগে বেগম মাসুমা (৩৪) নামের এক বাংলাদেশি নারীকে একটি আদালতে হাজির করা হয়।  একটি ফ্যাক্টরির উৎপাদন অপারেটর হিসেবে কর্মরত এই নারীর বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাতের অভিযোগের পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকায় অভিবাসন আইনেও পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ব্যবহৃত ২৯ সেন্টিমিটারের ছুরিটি প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে গণ্য।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেগম মাসুমা বাবু মণ্ডল (৩৩) নামের ওই পুরুষকে ছুরি ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মকভাবে জখম করেন। পুলিশ ঘটনার পর ২৯ সেন্টিমিটারের একটি ছুরি জব্দ করে, যা এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভিকটিম বাবু মণ্ডল বর্তমানে সুলতানাহ আমিনাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিচারক দাতুক আহমদ কামাল আরিফিন ইসমাইল-এর সামনে বেগম মাসুমা প্রাথমিকভাবে দোষ স্বীকার করলেও, অভিযোগের ভাষা পুরোপুরি বুঝতে না পারা এবং এটি শর্তসাপেক্ষ হওয়ায় আদালত তা গ্রহণ করেননি। মাসুমার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ধারা ৩২৬ (বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায়ে গুরুতর আঘাতের জন্য স্বেচ্ছায় আঘাত করা) এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর জুহাইনি জুল কাফলি আদালতে জানান, এই অপরাধটি জামিন-অযোগ্য। তাছাড়া, অভিযুক্ত একজন বিদেশী, তার বৈধ কাগজপত্র নেই, এবং তিনি ভিকটিমের সঙ্গিনী হওয়া সত্ত্বেও গুরুতর আঘাত করেছেন—এই কারণগুলোতে তিনি জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান। আদালত তা মঞ্জুর করে মাসুমার জামিন নামঞ্জুর করেন এবং আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। সে সময় আদালত একজন বাংলাদেশি দোভাষী নিয়োগের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, একই দিনে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বেগম মাসুমার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়। তিনি কোনো বৈধ ভ্রমণ পাশ ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট আতিফাহ হাজিমাহ ওয়াহাব তার কাছ থেকেও আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি নেননি, কারণ মাসুমা অভিযোগ বুঝতে পারছিলেন না। অভিবাসন আইনের এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা হতে পারে। এই মামলার জন্যও ১১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed