Main Menu

গুমের ডকুমেন্টারির শ্যুটিংয়ের জন্যে সিলেট আসলেন সালাউদ্দিন আহমদ

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: “আমাকে যেদিন বর্ডার ক্রস করানো হচ্ছিলো, তখন আমি জানতাম না আমাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো ক্রসফায়ার করে ফেলবে বা বনে-জঙ্গলে ফেলে দেবে।”

Manual6 Ad Code

এভাবেই ২০১৫ সালের ‘গুম’ হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত এলাকায় গিয়ে নিজের গুম হওয়ার স্থান ঘুরে দেখেন সালাহউদ্দিন। এসময় তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, তাকে চোখ ও হাত-পা বেঁধে সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠানো হয়েছিল।

এরআগে শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর তামাবিল সীমান্তে যান তিনি। সেখানে ২০১৫ সালের ১০ মে সন্ধ্যায় যেদিক দিয়ে তাকে ভারতের শিলং শহরে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি ধারণা করেন, সেই পথ পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, “হয়তো এই রাস্তা দিয়েই আমাকে নেওয়া হয়েছিল। তখন চোখ বাঁধা ছিল, জায়গা চিনতে পারিনি। তবে এখন মনে হচ্ছে এই পথটাই ছিল।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় তারা আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ এসে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমি ভারতের শিলং শহরে আছি।”

Manual3 Ad Code

তিনি আরও বলেন, “পরে আমাকে একটি মেন্টাল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মনে হয়েছিল, বুঝি জীবনটা আর স্বাভাবিক হবে না।”

Manual8 Ad Code

সালাহউদ্দিন আহমদ সিলেটে এসেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘গুম’ বিষয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে। তথ্যচিত্রটি গুম-খুন বিষয়ক ঘটনা নিয়ে কাজ করছে গঠিত গুম কমিশন, যার নেতৃত্বে আছেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, “এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। সালাহউদ্দিন আহমদ ডকুমেন্টারির শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে এসেছেন।”

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর প্রায় ৬৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ১০ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়।

Manual6 Ad Code

আইনি জটিলতা এবং মামলার কারণে তিনি প্রায় ৯ বছর ভারতে অবস্থান করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফেরার পথ সুগম হয় এবং ১১ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

২০২৫ সালের ৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুম সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দাখিল করেন সালাহউদ্দিন। সেখানে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করেন।

ডকুমেন্টারির শ্যুটিং চলাকালীন সালাহউদ্দিন আহমদ বারবার স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। এক স্থানীয় নেতা বলেন, “তিনি যেসব স্থানে গুম হওয়ার আগে-পরে ছিলেন, সব জায়গায় গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। যেন আবার সেই সময়টায় ফিরে গেছেন। এতে করে চিত্রায়নে ঘটনাগুলো বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন সম্ভব হয়েছে।”

শনিবার সকালে সালাহউদ্দিন আহমদকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের শামীম, মিফতাহ সিদ্দিকী, এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এম এ মালিক ও কামরুল হাসান চৌধুরী শাহীন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code