Main Menu

কুয়ালালামপুরে টানা বৃষ্টির মধ্যেও ইসরায়েলবিরোধী সমাবেশে

Manual3 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুয়ালালামপুরে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি চললেও থামাতে পারেনি হাজারো মানুষের সমাবেশ। জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর তাবুং হাজি ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হয়ে গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তাদের বক্তব্য শেষে তারা মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে মিছিল করেন।

Manual2 Ad Code

সমাবেশে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন। তিনি গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ)-কে সীমাহীন মানবতার প্রতীক আখ্যা দিয়ে বলেন, “খাদ্য ও ওষুধ বহনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করা মানবিক নীতির পরিপন্থী।”

প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমও ফ্লোটিলা অভিযানের বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখন যাত্রা শুরু করলে তারাও আটক হবেন। অকারণে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষের জীবন বাঁচানো, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, শান্তি প্রক্রিয়া ও মানবিক সহযোগিতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

ইতালি থেকে শুরু হওয়া ফ্লোটিলার তৃতীয় ধাপে ১০টি নৌযানে সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংসদ সদস্য ও মানবিক কর্মীরা রয়েছেন। মালয়েশিয়া থেকেও নয়জন প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রফেসর ইমেরিটাস ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে আটজন চিকিৎসক “কনসায়েন্স” জাহাজে রয়েছেন এবং “ইয়ট উম্মে সাদে”-তে রয়েছেন চিকিৎসক ড. মাজিয়াহ মোহাম্মদ।

Manual8 Ad Code

তুরস্ক এ আন্দোলনের ঐতিহাসিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বরাবরের মতো এবারও সক্রিয়। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলের বাধা ও আটক নিন্দা করে গাজায় মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

Manual4 Ad Code

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া প্রকাশ্যে এই অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার মানবিক সঙ্কটে নীরব থাকা মানে অন্যায়ের অংশীদার হওয়া। কূটনৈতিক চাপে তারা সরাসরি মিশনে অংশ না নিলেও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

Manual4 Ad Code

কাতারও দীর্ঘদিন ধরে গাজার আর্থিক ও মানবিক সহায়তায় মুখ্য ভূমিকা রেখে আসছে। তারা ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কড়া অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক। ওয়াশিংটন মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সমর্থন করেছে। ইউরোপের কিছু দেশ যেমন স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব হলেও ইইউ সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ভাষায় সীমাবদ্ধ থেকেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও কাতারের অবস্থান দেখায় মুসলিম বিশ্বের জনমানসে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ঐক্য রয়েছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান ফ্লোটিলা আন্দোলনকে বৈশ্বিক কূটনীতিতে কাঙ্ক্ষিত শক্তি এনে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তবুও ধারাবাহিক মানবিক মিশন প্রমাণ করছে, গাজার মানুষকে নিয়ে বিশ্বের সাধারণ জনগণ এখনও নীরব নয় এবং মালয়েশিয়া এই বৈশ্বিক সংহতির অগ্রভাগে অবস্থান করছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code