ম্যানচেস্টারে ইহুদি উপাসনালয়ে হামলা, নিহত ২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে ভয়াবহ হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ইয়োম কিপুর-ইহুদিদের ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) জানায়, হামলাকারী ৩৫ বছর বয়সী সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক জিহাদ আল-শামি। তিনি হিটন পার্ক হিব্রু কনগ্রেগেশন সিনাগগের বাইরে প্রথমে গাড়ি তুলে দেন লোকজনের ওপর, পরে ছুরি হাতে আক্রমণ চালান। ঘটনাস্থলেই পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে।
পুলিশ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি ও প্ররোচনার অভিযোগে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুইজন পুরুষ এবং ৬০ বছরের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলাকারীর কোমরে থাকা সন্দেহজনক ডিভাইসও পরীক্ষা করা হয়, তবে তা কার্যকর বিস্ফোরক নয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আল-শামি শৈশবে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং ২০০৬ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান। তবে সরকারের চরমপন্থা বিরোধী প্রকল্প ‘প্রিভেন্ট’-এ তার নাম কখনো পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি ছিল ইহুদিদের ওপর ইহুদি হওয়ার কারণে আক্রমণ।’ তিনি দ্রুত ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেশে ফিরে এসে নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দেন। তিনি আশ্বাস দেন, দেশের সব উপাসনালয়ে বিশেষ করে সিনাগগগুলোয় পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হবে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও রাজধানীর সিনাগগ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধান র্যাবাই স্যার অ্যাফ্রেইম মারভিস বলেন, ‘এই হামলা ইহুদিদের বিরুদ্ধে রাস্তায়, ক্যাম্পাসে, সোশ্যাল মিডিয়ায় চলমান ঘৃণার ঢেউয়ের করুণ প্রতিফলন।’
সিনাগগের র্যাবাই ড্যানিয়েল ওয়াকার শান্তভাবে উপস্থিত উপাসকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করেন এবং দরজা বন্ধ করে হামলাকারীকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে প্রথম হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হামলায় তিনজন আহত হন-একজন ছুরিকাঘাতে, একজন গাড়ির ধাক্কায় এবং আরেকজন ধাক্কাধাক্কির সময় জখম হন।
জিএমপির প্রধান কনস্টেবল স্যার স্টিফেন ওয়াটসন উপাসনালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও উপাসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলার পর ক্রাম্পসল, প্রেস্টউইচ ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় তদন্ত ও অপরাধস্থল চিহ্নিতকরণ অব্যাহত রয়েছে।
Related News
মালয়েশিয়ায় ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭Read More
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ, নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান সরকার নতুন করে একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।Read More



Comments are Closed