Main Menu

জুড়ীতে বেইলি সেতুতে ধস, ভারত-বাংলাদেশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বটুলি শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে একটি সংযোগ সড়কসহ বেইলি সেতু ধসে গেছে। এর ফলে আজ সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং যাত্রী পারাপার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বটুলি শুল্ক স্টেশনের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পুরান রাঘনা বাজার শুল্ক স্টেশন অবস্থিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বেইলি সেতুটি কয়েক বছর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাহাড়ি রাঘনাছড়ার ওপর নির্মাণ করেছিল। সেতুটির পূর্ব প্রান্ত ভারতে এবং পশ্চিম প্রান্ত বাংলাদেশে পড়েছে। প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশ অংশে সেতুর পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়ক পাকাকরণ করা হয়।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় এবং রাঘনাছড়া দিয়ে উজানের পাহাড়ি ঢল নামে। এর ফলশ্রুতিতে আজ সকালের দিকে বেইলি সেতুর পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়কে ধস দেখা দেয় এবং এরপর সেতুটির ওই প্রান্তও ধসে যায়।

Manual1 Ad Code

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেতুর দুই প্রান্তেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে পূর্ব প্রান্তে সেতুতে ওঠার পথ বন্ধ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও পশ্চিম প্রান্তে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Manual5 Ad Code

আজ সোমবার বেলা ৯ টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রাঘনাছড়ায় পানির স্তর কমে এসেছে। সেতু সংলগ্ন সংযোগ সড়কের কিছু অংশ এবং সেতুরও একই অংশ ধসে পড়েছে। দুই পাশে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, ভারতের পক্ষ থেকে পূর্ব প্রান্তে ধসে পড়া সেতুর কাছে একটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে দেখা গেছে, যেখানে কিছু স্থানে মাটি খোঁড়া হয়েছে।

বটুলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোস্তফা হোসেন জানান, সকাল আট-নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক ও সেতু ধসে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে এই চেকপোস্ট দিয়ে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকেরা বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে পারেন, বাংলাদেশি নাগরিকেরা ভিসা সুবিধার অভাবে এই চেকপোস্ট ব্যবহার করে ভারতে যেতে পারেন না।

স্থানীয় লোকজন আরও জানান যে, সকাল থেকে বটুলি শুল্ক স্টেশন দিয়ে কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সেখানে দেখা যায়নি।

বটুলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন আল মাসুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে বটুলি শুল্ক স্টেশনের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নাজমুল আলম আহমদ জানান যে, তিনি ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি সকালেই সংযোগ সড়কসহ সেতু ধসে পড়ার খবর পেয়েছেন এবং দুই দেশের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

নাজমুল আলম আরও বলেন, বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে ছিল। মাসখানেক আগে সিলেটে অবস্থিত ভারতের সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার চন্দ্র শেখর বটুলি শুল্ক স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি নড়বড়ে বেইলি সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছিল। এরই মধ্যে ভারত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে আপাতত ধসে পড়া সংযোগ সড়ক ও সেতু দ্রুত মেরামতের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান নাজমুল আলম।

Manual6 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code