পাকিস্তানে ট্রেন থেকে সব জিম্মি উদ্ধার, নিহত ৩০ হামলাকারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ট্রেন থেকে সব জিম্মিকে উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে ৩০ হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।
বুধবার (১২ মার্চ) দেশটির সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের জিম্মি করা ট্রেনের সব যাত্রীকে মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর অন্তত ২৮ সৈন্য নিহত হয়েছেন। ট্রেনের জিম্মি ৩৪৬ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ৩৩ জন সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছেন। জিম্মি করা ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত ২৭ সৈন্যকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছেন; যারা ওই ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া অভিযান পরিচালনার সময় অপর এক সেন্য নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের ৩০ সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এর আগে, বেলুচিস্তানের বোলান জেলায় পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনে মঙ্গলবার সশস্ত্র হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ট্রেনটিতে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন প্রায় ২০০ জন। এর মধ্যে দুদিনের অভিযানে ট্রেনের প্রায় সাড়ে ৩০০ যাত্রী উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে বলান পার্বত্য অঞ্চলে হামলা করে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে তারা রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দেয় এবং এটিকে মাশকাফ টানেলের ভেতর আটকে ফেলে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেন ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৭০ থেকে ৮০ জন হামলাকারী জড়িত বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলাকারীরা আফগানিস্তানে তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, জার্মানি ও জাতিসংঘ।
রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রেনের নিরীহ যাত্রীদের খুব কাছে কিছু আত্মঘাতী হামলাকারী অবস্থান করছে। তারা বিস্ফোরক বেল্ট পরে রয়েছে। মানবঢাল হিসেবে যাত্রীদের ব্যবহার করায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী দাবি করেছেন, সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করছে এবং আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে অন্য একটি দেশ থেকে। পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভারত এ ঘটনার মদত দিয়েছে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, বিএলএ নিজেদের আদর্শ বন্দুকের মাধ্যমে চাপিয়ে দিতে চায়। তারা নিরীহ যাত্রীদের হত্যা করছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে, পাকিস্তান রেলওয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোয়েটাগামী ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকবে।
প্রসঙ্গত, ‘বিএলএ’ বেলুচিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। পাকিস্তানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও এটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। বিএলএ দাবি করেছে, তারা বালুচ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি চায়। এসব বন্দিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী গোপন অভিযানে আটক করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
Related News
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২, বাড়ছে নিখোঁজের তালিকাও
Manual6 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনেRead More
নেপালে ভয়াবহ বন্যা: ১৫০০ নিখোঁজ, ৮০০ জনই বিদেশি
Manual1 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১ হাজারRead More



Comments are Closed