আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ কামরান ৫ মাসেও পাননি কোনো সহায়তা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বৈষম্য বিরোধি আন্দোলনে যোগ দিয়ে নিজের জীবনকেই চরম বৈষম্যের কবলে ফেলে দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ সিলেটের গোলাপগঞ্জের শিক্ষার্থী কামরান হোসেন। সহপাঠিদের সঙ্গে আন্দোলনে গিয়ে এখন নিজের জীবন নিয়েই ভীষণ উদ্বিগ্ন তিনি। এই কঠিন শীতে গুলিবিদ্ধ পায়ে ‘ইলিজারভ’ পরে ক্রেচে ভর দিয়েও একা হাঁটতে পারেন না। অন্যের সাহায্য নিয়েই চলতে হচ্ছে তাঁকে।
কামরান হোসেনের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউইনিয়নের হাওরতলা গ্রামে। তিনি ঐ গ্রামের বুরহান উদ্দিনের পুত্র। এ ঘটনায় সিলেট নগরের জালালাবাদ কলেজ থেকে একাদশ উত্তীর্ণ কামরান হোসেনের শিক্ষা জীবনও পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। হৃদরোগে শয্যাশায়ী পিতার সংসারে এখন এক চরম ‘বোঝা’ কামরান। যে কারণে প্রতিনিয়িত‘ধার-কর্জ’ করে চিকিৎসার করাতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিন লাখ টাকার বেশী খরচ হলেও এসব টাকা পরিশোধের কোনই বন্দোবস্ত নেই কামরানের বা তাঁর পরিবারের। ফলে এখন অসুস্থতার পাশাপাশি এক চরম দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাঁকে।
কামরান হোসেন এই প্রথম বারের মতো কোনো আর্থিক সহায়তা নিতে এসেছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার পুলবাড়ীইউনিয়নের বায়তুল মাহমুদে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাকে সেখানে নিয়ে এসেছেন। সেখানে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। সেখানে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের ফরেন এডভাইজার অহিদ আহমদ গোলাপগঞ্জের শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দোয়া মাহফিল ও তাদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। এসময় ৪২ জনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। জাকির হোসেনও এই ৪২ জনের একজন।
এ প্রতিবেদকের কাছে সবিস্তারে তিনি তুলে ধরেন কিভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন তিনি আর কিভাবেই কাটছে তাঁর বর্তমান দিনগুলো।
আহত কামরান হোসেন বলেন, গত ৪ আগস্ট ভোরে বাড়ি থেকে নাস্তা করে বন্ধু শাফিউরের সঙ্গে চলে আসেন ঢাকাদক্ষিন বাজারে। যখন বাজারে আসেন তখন ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সম্মুকের সড়কে সংঘর্ষ চলছিলো আইন শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে। সেখানে তিনিও ছাত্রদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন। এক পর্যায়ে বিজিবি’র ছুঁড়া গুলিতে কামরান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তার সহপাঠি ও বন্ধুরা মিলে তাকে নিয়ে একটি গাড়িযোগে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেই তার দু পায়ে অপারেশন হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও অপারেশনের খরচ নেননি ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরে যতবার যখন যেখানে চিকিৎসা করাচ্ছেন সব সময়েই কাড়ি কাড়ি টাকা গুণতে হচ্ছে ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়া’ এ শিক্ষার্থীকে। পরিবার তাঁর চিকিৎসার কোনো টাকা দিতে পারছেন না। কামরানই ধার করে চিকিৎসা চালাচ্ছেন বলে জানালেন এ প্রতিবেদককে। আর এ ধার-দেনার পরিমাণ তিন লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও তিনি জানান। ‘অবশিষ্ট চিকিৎসা ক্যামনে চলবে’ প্রশ্ন রেখে বলেন, ভেবে কিছুই কুল পাচ্ছি না। আমার পরিবার আমার চিকিৎসার ব্যয় বহনে অপারগতা জানিয়েছে। সামর্থও নেই। বাবা হার্ট অ্যাটাক করে ঘরে শয্যাশায়ী। গর্ভধারিনি মা-ও অসুস্থ। তাঁর কিছুই করার নেই। তিন ভাই এক বোনের সংসারে কামরান দ্বিতীয়। তার এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সবাই মুষড়ে পড়েছেন। কেউ তাকে সহযোগিতাও করছেন না। ফলে নিজে খুবই অসহায় বোধ করছেন কামরান হোসেন।
ডান পা দিয়ে গুলি ঢুকে বাম পা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া কামরান হোসেন বলেন, তাঁর পায়ের হাটু চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে গেছে। কতদিন লাগবে চিকিৎসায় তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। কামরান হোসেন বলেন এ পর্যন্ত সরকারী বেসরকারী কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ের কোনো সহায়তাই তিনি পাননি। এই প্রথম এসেছেন। এজন্য সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কামরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের নাম্বার হচ্ছে-০১৭৮৮৫২৪০৭১।
Related News
সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের চারRead More
সিলেটে চোরাই পথে আসা ৪৬টি আইপিএস মেশিন জব্দ
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চলমান ঘনঘন লোডশেডিংকে পুঁজিRead More



Comments are Closed