Main Menu

সিলেটে ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের ৫ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণমিছিল কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার (২ আগস্ট) সিলেটে প্রায় পাঁচ ঘন্টাব্যাপী ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। এতে শিশু, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজের পর সুরমা আবাসিক এলাকা থেকে মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। আরেকটি মিছিল বের হয় তেমুখী এলাকা থেকে। উভয় মিছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনে এসে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে মদিনা মার্কেটের দিকে এগুতে থাকে।

বিকেল ৪টার দিকে মিছিলটি আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে আসলে আবারও পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা আখালিয়া এলাকার বিভিন্ন গলির ভেতর অবস্থান নেয়। থেমে থেমে তারা গলির ভেতর থেকে বের হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে সড়কের উপর আগুন ধরায়। পুলিশও তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষ চলাকালে দৈনিক কালবেলার সিলেট প্রতিনিধি মিটু দাস জয়ও আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে পথচারী, শিশু, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। শফিক আলী (১২) নামে ওই শিশুর বাড়ি সুনামগঞ্জে। তবে সে পরিবারের সাথে নগরের আখালিয়া এলাকায় থাকে। তাকে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার গলায় ছড়রা গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।

রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আখালিয়া ও আশপাশ এলাকায় থেমে থেমে আন্দোলনকারী ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, মিছিল থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা ও পুলিশের উপর আক্রমণ করা হলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং আট জনকে আটক করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed