Main Menu

জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ বিশ্ববুকে প্রশংসা কুঁড়োচ্ছে : আইজিপি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) আয়োজনে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ইমাম ও আলেম ও সুশীল সমাজ প্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশে মহা-পরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সবকিছুরই আধুনিকায়ন ঘটেছে। অপরাধের ধরনও পাল্টেছে। অপরাধীরাও এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবহার করছে। অপরাধের ধরনের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশও এখনও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে যদি তুলনা করি তবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অন্যান্য অনেক বড় দেশের চাইতেও এগিয়ে আছে। প্রশংসা কুঁড়োচ্ছে। আগে আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বিশ্বের বড় বড় দেশের কাছ থেকে ট্রেনিং নিতাম। এখন সেসব দেশের লোকজন ট্রেনিং নিতে বাংলাদেশে আসতে হয়। দেখতে আসেন আমরা কীভাবে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করি। তারপরও কিছু কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে থাকে।

তিনি বলেন, পূণ্যভূমি সিলেটেও কয়েকটি আলোচিত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ পুলিশবাহিনী প্রত্যেকবারই সফলতার পরিচয় দিয়েছে। নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে হলেও তারা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবিচল থেকেছে। সূর্যদীঘলবাড়ির ঘটনা, শাহজালাল (রহ.) দরগাহে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের উপর হামলার ঘটনা, দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে আতিয়া মহলে জঙ্গিদের আস্তানার সন্ধান ও বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোতে পুলিশবাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনও মাঝেমাঝে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। সবাই মিলে যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে শান্তির দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ধ্বংস করা সহজ।

সোমবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারে সিলেট জেলা পুলিশ লাইন্সেনর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এসপি এম শামসুল হক মিলনায়তনে কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়। পুলিশ প্রধানের আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।

এটিইউর ডিআইজি (প্রশাসন) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী কর্মশালায় মুখ্য আলোচক ছিলেন এটিইউর অতিরিক্ত আইজি এস এম রুহুল আমিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী এবং সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. জাকির হোসেন খান।

কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন ও জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

এছাড়াও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিলেট রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, আলেম এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে না। দেশপ্রেম, দেশের শান্তি, কল্যাণ ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাই এক।’ তিনি উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরার জন্য আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দেশের সাধারণ জনগণ একাত্মতা ঘোষণা করায় আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে জঙ্গিবাদ দমনে সফল হয়েছি।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ উন্নয়নের পথে বাধা; দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আইজিপি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। পুলিশ এখন যেকোনো অপরাধ মোকাবেলায় সক্ষম।

মুখ্য আলোচক এস এম রুহুল আমিন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আরও কাজ করতে চাই।

তিনি জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় আলেম-ওলামাসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

মূল প্রবন্ধে শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিশেষায়িত ইউনিট একযোগে কাজ করে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশংসা অর্জন করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফিজ মাওলানা মুফতি মো. শাহনেয়াজ। কর্মশালা সঞ্চালনায় ছিলেন এটিইউয়ে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) নাদিয়া জুঁই ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাইবার মনিটরিং) নূর মোহাম্মদ আলী চিশতী।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে যৌথ আলোচনায় বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড অ্যানভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শবনম আযীম, এটিইউয়ে কর্মরত অ্যাডিশনাল ডিআইজি টি. এম মোজাহিদুল ইসলাম।
দলভিত্তিক কার্যক্রমে সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন এটিইউয়ে কর্মরত পুলিশ সুপার (লজিস্টিকস্ এন্ড ডেভেলপমেন্ট) আবু আশ্রাফ, পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মেরিন সুলতানা, পুলিশ সুপার (প্ল্যানিং এন্ড রিসার্চ) কাজী মো. আবদুর রহীম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন এটিইউ পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল। র‌্যাপোটিয়ার হিসেবে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্টেল এ্যানালাইসিস-১) এটিইউ তাসমিন আক্তার, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), অপারেশনস্ উইং, এটিইউ এজাজ শফী।

এর আগে আইজিপি সিলেট জেলা পুলিশ লাইনসে পুলিশ অফিসার্স মেসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট উদ্বোধন করেন।

অফিসার্স মেসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এন্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন, এন্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি (প্রশাসন) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাকির হোসেন খান এবং সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed