নিরব ঘাতক ডায়াবেটিস বহু ব্যাধির আহবায়ক : ডা. আহবাব
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যুগে যুগে, দেশে দেশে তার হরেক নাম- মধুমেহ, বহুমূত্র, ডায়াবেটিস মেলিশাস, এন্ডোক্রাইন এবং মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস। প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন করে ডায়াবেটিক রোগী মারা যাচ্ছে- এই ভয়াবহ সংবাদ ভাবিয়ে তুলছে মানুষকে। নীরব ঘাতক স্বভাবের ডায়াবেটিক রোগটি এমনিতেই দেহে বহু ব্যাধির (চোখ, হার্ট, কিডনিসহ মূল্যবান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যাপক ক্ষতিসাধনে সক্ষম) আহবায়ক। তাই এই নিরব ঘাতক ডায়াবেটিস কে নিমূর্ল করতে এর প্রতিরোধ করতে হবে এখনই।
সিলেট ডায়াবেটিক সমিতি কর্তৃক আয়োজিত ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস এর আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদান কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা: এম. এ. আহবাব।
২৮ ফেব্রুয়ারী উধবার বেলা ১২টায় সমিতির বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীম সভা কক্ষে সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালের অফিস সহকারী মো: লিয়াকত হোসেন এর পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাসপাতালের ল্যাব সরঞ্জামাদির ইনচার্জ মোঃ মালেক খান।
স্বাগত বক্তব্যে সিলেট ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ললিত মোহন নাথ বলেন, প্রায় ৬৫ বছর পূর্বে ডায়াবেটিস রোগ এর জন্মলগ্ন থেকে এ দিবসটি পালনের প্রক্রিয়া চলছে, যাতে করে জনগণের মাঝে ডায়াবেটিস সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের এ আয়োজন। শারীরিক শ্রম, নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট পরিমান খাওয়া এবং ওজন ঠিক রাখাসহ সচেতনা এই রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।
সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির সাধারন সম্পাদক লোকমান আহমদ তাঁর বক্তবে বলেন, যাদের ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অবশ্যই বছরে দু’বার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এজন্য সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে এমন নয়। এখন অনেক ফার্মেসিতে স্বল্পমূল্যে দ্রæত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা যায়। সেখান ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যাদের শিশুর ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদেরকেও বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে। সেই সঙ্গে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ডায়াবেটিক সচেতনতাই হচ্ছে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের অন্যতম হাতিয়ার। তাই সবাইকে এই ঘাতক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
সমিতির সহ-সভাপতি অ্যধাপক ডা. আজিজুর রহমান বলেন, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা, দুর্বল লাগা’ ও ঘোর ঘোর ভাব আসা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া, মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া, কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া, শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা, চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব, বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা, চোখে কম দেখতে শুরু করা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষনিকভাবে চিকিৎসকের প্রামর্শ নিতে হবে।
উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কার্যকরি কমিটির সম্মানিত সদস্য এডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান প্রমূখ।
এদিকে নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গঁনে সকাল দশটা টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত “বিনামূল্যে ডায়াবেটিস সনাক্তকরণ কর্মসূচী”-র উদ্ভোধন করেন সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির কার্যকরি কমিটির সম্মানিত সদস্য আফতাব চৌধুরী। এছাড়াও সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার সহকারে এক “বর্ণাঢ্য র্যালী” শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
Related News
সিলেটে ২ মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ভিডিও কলে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র। নিখোঁজ দুইRead More
সিলেটে অনুমোদনহীন ৪ প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমায় অনুমোদনহীন সার্জিক্যাল পণ্য বিক্রি ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনারRead More



Comments are Closed