Main Menu

দোয়ারাবাজারে লিবিয়ায় মানব পাচারের ঘটনায় আটক ৩

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের বহুল আলোচিত মানব পাচারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়খাল গ্রামের আব্দুল বারেকের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন (৪২), উরুরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের পুত্র শাহজাহান মিয়া (৬৫) ও ভাওয়ালীপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার পুত্র আবুল কাশেম (৫২)।

শনিবার (১৭ জুন) বিকালে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরে আসামীদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন।

জানা যায়, চক্রের মূলহোতা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়খাল গ্রামের আব্দুল বারেক দীর্ঘদিন যাবৎ লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। তার নেতৃত্বে চক্রটি উপজেলার বহু যুবককে লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, লিবিয়ায় এসব যুবককে বিভিন্ন মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশে থাকা তার স্ত্রী ও পুত্রের মাধ্যমে আদায় করা হতো মুক্তিপন।

উল্লেখ্য, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের তিন যুবক মাহমুদুল হাছান সৌরভ (২২), সুমন মিয়া (১৯) ও নোমান মিয়া (২২)-কে আব্দুল বারেক ৪ লক্ষ টাকার চুক্তিতে লিবিয়া পাঠান। লিবিয়া থেকে আব্দুল বারেক তাদেরকে ইতালি পাঠানোর নাম করে জনপ্রতি আরও সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন। ওই তিন যুবকের অভিভাবকরা স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে আব্দুল বারেকের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন ও ছেলে রেজাউল করিমের কাছে তিনজনের জন্য সর্বমোট ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ বুঝিয়ে দেন।

তবে টাকা পেয়েও তাদের ইতালি না পাঠিয়ে তুলে দেন আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের হাতে। মানবপাচারকারী চক্র তাদেরকে আটকে রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে নতুন করে মুক্তিপন দাবি করে আসছে বলে জানায় তাদের স্বজনরা।

পরে গত ১৫ জুন বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী সৌরভের পিতা কোরবান আলী বাদী হয়ে আব্দুল বারেক ও তার সহযোগীদের নামে মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মানবপাচারকারী চক্রের বাকিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান মেয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর।

Share





Related News

Comments are Closed