সিলেটে জ্বালানী তেল পাম্প মালিকদের ডাকা ধর্মঘট স্থগিত
ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটে পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট এন্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স এসোসিয়েশনের ডাকা ধর্মঘট শর্তসাপেক্ষে স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান ও পরিবেশকদের সাথে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট এন্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক সাংবাদিকদের জানান, ‘সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সাথে আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের দাবী তুলে ধরেছি, তিনি সব কথা শুনে পরিবেশকদের সাথে আলাপ করেছেন। তিনি আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন।’
ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকে শেষে তিনি শর্ত সাপেক্ষে ১৮ জানুয়ারি ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও ২২ জানুয়ারি তেল বিক্রী বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট এন্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স এসোসিয়েশন, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত শনিবার (১৪ জানুয়ারী) জ্বালানি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে সিলেটে জ্বালানি সংকটের কারণে ২২ জানুয়ারি রোববার থেকে তেল বিক্রী বন্ধের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস এ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সিলেটে জ্বালানি তেলের সংকট বর্তমানে আরও প্রকট হয়েছে। চাহিদার অর্ধেক জ্বালানিও সরবরাহ করতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন কোম্পানিগুলো। রেলের ওয়াগন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেল না আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
গত কয়েক মাস ধরে সিলেটের ব্যবসায়ীরা ভৈরব থেকে জ্বালানি এনে পাম্পগুলো সচল রেখেছিলেন। কিন্তু পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা সংকট নিরসনে আন্দোলনের পথ বেছে নেন।
এ অবস্থায় গত ১৪ জানুয়ারি সভা করে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেটের পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। তবে শর্তাসাপেক্ষে মঙ্গলবার তারা সে ধর্মঘট স্থগিত করেন।
জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সিলেট বিভাগে ১১৪টি পাম্পের মাধ্যমে জ্বালানী তেল বিক্রি করা হয়। বিভাগে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটার ডিজেল এবং ৩ লাখ লিটার পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ওয়াগন সংকটের কারণে গড়ে প্রতিদিন ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল মিলিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫-৬ লাখ লিটার। সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী একটি লরি আসার কথা সেখানে আসছে মাত্র ২-৩ দিন। যে কারণে সিলেটে দিন দিন জ্বালানি তেলের সংকট বেড়েই চলছে।
এ অবস্থায় সিলেটের ব্যবসায়ীরা এতদিন ক্রেতাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিজ খরচে ভৈরব থেকে জ্বালানি তেল এনে বিক্রি করছিলেন। কিন্তু পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাম্প মালিকদের অব্যাহতভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এদিকে, একসময় সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া কনডেনসেড শোধন করে সিলেটেই উৎপাদন হতো জ্বালানি তেল। কিন্তু সিলেটের শোধনাগারগুলোতে উৎপাদিত তেলের ‘মান ভাল নয়’ অজুহাতে ২০২১ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় সকল শোধনাগার। পরে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে কেবলমাত্র রশিদপুরের শোধনাগারটি চালু হলেও বাকিগুলো এখনো বন্ধ রয়েছে। সিলেটে জ্বালানি তেল সংকটের একমাত্র কারণ এটি।
Related News
সিলেটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বল জব্দ, আটক ২ যুবক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাRead More
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের পর সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘অলRead More



Comments are Closed