সিলেটে ৩৫ ব্যক্তিকে আয়কর বিভাগের সেরা করদাতা সম্মাননা প্রদান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ ও দীর্ঘসময় কর প্রদানকারী ৩৫ করদাতাকে সম্মাননা প্রদান করেছে কর অঞ্চল সিলেট।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরতলীর একটি অভিজাত হোটেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিভাগের সর্বোচ্চ ও দীর্ঘসময় কর প্রদানকারী করদাতাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সিলেট কর অঞ্চলের কমিশনার মোঃ আবুল কালাম আজাদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।
তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, বিশ্বে যত প্রবাসী আছেন সবাই এনআইডি কার্ড পাবেন এজন্য তাদেরকে দেশে আসতে হবে না। বিদেশে বসেই তারা এনআইডি কার্ড পাবেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা জমি জমা নিয়ে বিভিন্ন সময় সমস্যায় পড়েন এজন্য রেপিট ট্রাইবুন্যাল করার প্রস্তাব দিয়ে ছিলাম তা এখনো পাস হয়নি। পাস হলে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীদের জন্য ভিন্ন সুবিধার কথা চিন্তা গত ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রীসভায় প্রবাসী দিবস পালন করার অনুমোদন করা হয়। প্রতিবছর ৩০ ডিসেম্বর এ দিবস পালস করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, কর না দিলে আমরা কোন কিছুই প্রত্যাশা করতে পারিনা। দিবোনা অথচ নিবো এটা হতে পারেনা । পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই সেখানে আহরিত রাজস্বের অধিকাংশই আসে আয়কর তথ্য প্রত্যক্ষ কর থেকে। বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়ে তুলতে আয়কর বিভাগকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, মুষ্টিমেয় করদাতার উপর করের বোঝা না চাপিয়ে করনেট সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশ গঠনে তিনি কর বিভাগের সাফল্য কামনা করেন। তিনি নতুন নতুন করদাতাদের খুজে বের করার জন্য কর কমিশনের প্রতি আহবান জানান।
দুনিয়ার সবদেশে ট্যাক্স ফাকি দেয়ার প্রবনতা আছে কিন্তু সকল দেশই ট্যাস্ক আহরনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন পলিসি গ্রহন করে আমাদেরকেও সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি প্রস্তাব করে বলেন, আমাদের দেশের সবাইকে সোশ্যাল সিকিউরিটির আন্ডারে আনতে হবে। সেজন্য আমাদের দেশের সকল নাগরিক যারা আইডি কার্ড পাবেন তাদের সবাইকে ট্যাক্সের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ পিপিএম, বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স এসোসিয়েশনের সহসভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফিকুর রহমান, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদ।
অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মর্তুজা শরিফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে কর প্রদান পদ্ধতি আরো সহজ ও ডিজিটাল করার ব্যাপারে তাগিদ দেন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ও দীর্ঘসময় কর প্রদানকারী করদাতাগন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে করদাতাদের সুদৃশ্য ক্রেস্ট, সনদ, গিফট বক্স ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের ৪ জেলা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩৫ ব্যক্তিকে সেরা করদাতা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পর্যায়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলা থেকে মোট ১০জন দীর্ঘমেয়াদী সর্বোচ্চ করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী দুজন আব্দুল খালিক এবং ধ্রুব জ্যোতি শ্যাম, এছাড়া সর্বোচ্চ তিনজন করদাতা হলেন এ কে এম আতাউল করিম, রাখাল দে এবং এম নুরুল হক সোহেল। সর্বোচ্চ করদাতা নারী হলেন হাছিনা আক্তার চৌধুরী, তরুন পুরুষ সর্বোচ্চ করদাতা হলেন মুহাম্মদ শাহ আলম।
হবিগঞ্জ জেলা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আব্দুল মালিক এবং মোঃ আজমান আলী। সর্বোচ্চ করদাতা মিজানুর রহমান শামীম, মোঃ গোলাম ফারুক এবং আলহাজ্ব মোঃ দুলাল মিয়া। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন শাবানা বেগম এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করাদাত হলেন মোঃ এমদাদুল হাসান।
সুনামগঞ্জ জেলা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মোঃ গোলাম মোস্তফা এবং হিমাংশু আচার্য্য। সর্বোচ্চ করদাতা মোঃ আতিকুর রহমান, অমল কান্তি চৌধুরী এবং মোঃ মোর্শেদ আলম বেলাল। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী। করদাতা হলেন দিলশাদ বেগম চৌধুরী এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করাদাত হলেন মোঃ জহিরুল হক।
মৌলভীবাজার জেলা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. সত্য রঞ্জন দাস এবং সাধন চন্দ্র ঘোষ। এছাড়া সর্বোচ্চ করদাতা তিনজন মোঃ মুহিবুর রহমান, কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং জালাল আহমেদ। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন সান আরা চৌধুরী এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করাদাত হলেন মোঃ তানভীর চৌধুরী।
সিলেট জেলা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আহমেদ এবং আলী আহমেদ কুলু। এছাড়া সর্বোচ্চ করদাতা তিনজন মোঃ আবুল কালাম, মোহাম্মদ আবু তাহের এবং মোহাম্মদ ফরহাদ। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন মোসাম্মৎ আফছানা আক্তার এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করাদাত হলেন মোঃ খাইরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী করদাতা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed