Main Menu

স্কুলের পিটিতে দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়ানো ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গণহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর অসুস্থ ৩ জনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসেম্বলি চলাকালীন এই ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর পূর্বে সকাল ১০টায় এসেম্বলি অনুষ্ঠিত হয়। এসেম্বলি চলাকালীন সময়ে হবিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল উল্লা বিদ্যালয়টিতে এসে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন। রোদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনার কারণে দুইজন শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে পড়ে যান।

এসময় একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন খানম অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কথায় কর্ণপাত করেননি। এক পর্যায়ে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কেউ বিদ্যালয়ের মাঠে পড়ে আবার কেউ অজ্ঞান কেউ বমি শুরু করে। আবার কারো কারো খিচুনি উঠায় আশপাশের মানুষ এসে চিকিৎসার দাবি জানালে তখন অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকে বানিয়াচং স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল উল্লা পালিয়ে যান।

এসময় শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িতে অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকে উঠিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে জানা যায়।

অসুস্থ্ ছাত্রীরা হল- সংগ্রাম রায়ের পাড়ার নির্মল চন্দ্রর মেয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী বেশাখী চন্দ্র, সদ্যেরটুলা মহল্লার নবিউর রহমানের মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী সানিয়া রহমান মিম, রঘু চৌধুরী পাড়া মহল্লার রায়হান মিয়ার মেয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মিতু আক্তার, সদ্যেরটুলা মহল্লার শাহআলমের মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী অপি আক্তার, ঢালি মহল্লার নুর মোহাম্মদ মিয়ার মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী সুইটি আক্তার, জামালপুর মহল্লার আনেয়ার হোসেন এর মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রাবনী আক্তার, আমিরখানী মহল্লার জাকির হোসেন এর মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী দিপা আক্তার, খন্দকার মহল্লার আব্দুল মতিন এর মেয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী হেলেনা আক্তার, মজলিসপুর গ্রামের নুর উদ্দিন মিয়ার মেয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী রুপালী আক্তার, রঘু চৌধুরীপাড়া মহল্লার জিতু শীলের মেয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী প্রমিথী শীল, মজলিসপুর মহল্লার আব্দুল করিম মিয়ার মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী মিনা আক্তার, মজলিসপুর মহল্লার কামাল মিয়ার মেয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী ঝুমা আক্তার, কুতুবখানী মহল্লার মুনাফ লস্কর এর মেয়ে ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী উষা আক্তার ও কামালখানী মহল্লার কবির মিয়ার মেয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী জারা আক্তারসহ ২০ জন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, আমার মেয়ে-ভাতিজিসহ পরিবারের প্রায় ১০-১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর জন্য দায়ী জেলা শিক্ষা অফিসার। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধান শিক্ষক উল্টো খারাপ আচরণ করেছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।

প্রধান শিক্ষক পারভীন খানম গণহিস্টিরিয়ার কথা স্বীকার করে বলেন- তবে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা সুস্থ আছেন।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা. শামীমা খাতুন বলেন, আমাদের এখানে প্রায় ১৭জন চিকিৎসা নিয়েছেন। মেয়েলী আবেগ থেকে এমন অসুস্থতা দেখা যায়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল উল্লা বলেন, আমার বক্তব্য বিলম্ব হওয়ার কারণে গণহিস্টিরিয়া হয়েছে এটা ঠিক না। মেয়েরা সকালে খাওয়া-দাওয়া না করেই স্কুলে আসে। এছাড়া এদের আয়রনের অভাব রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed