Main Menu

টানা ছুটিতে কমলগঞ্জে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

Manual1 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: টানা ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যরে অপার লীলা নিকেতন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। শারদীয় দুর্গাপূজা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পাওয়া ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও খুশী হয়েছেন।

Manual6 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা বাগান লেক, পাত্রখোলা লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, ক্যামেলিয়া লেক, গল্ফ মাঠ ও হামহাম জলপ্রপাত পরিণত হয় পর্যটকদের মিলনমেলায়। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সামনে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায়। ফলে রাস্তার দু-পাশে তৈরি হয় দীর্ঘ যানযট, ভোগান্তিতে পড়েন পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা লোকজন।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে অনন্য নয়, দেশের সব বনাঞ্চলের মধ্যেও সবচেয়ে নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। যে কারণে দেশের শিক্ষা গবেষণা, ইকো ট্যুরিজমসহ ভ্রমণবিলাসীদের মধ্যে ক্রমেই আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এই উদ্যান। এখানে প্রায় ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ছয় প্রজাতির সাপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। তাদের মধ্যে বিরল প্রজাতির উল্লুক, বানর, চশমা পরা বানর, লজ্জাবতী বানর, হনুমান, ধনেশ পাখি, শ্যামা, অজগর, মেছোবাঘ ও মায়া হরিণ উল্লেখযোগ্য।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পর্যটক হাসান আল-মামুন বলেন, ‘আমি অনেক আগেই এখানে এসেছিলাম। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা চা-বাগান দেখতে চেয়েছিল। এবার পুরো পরিবার নিয়ে চলে এসেছি। কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা–-বাগান ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি। সবুজের মাঝে খুবই ভালো লাগছে। চা-বাগানের ভেতরে পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ করছি।’

Manual7 Ad Code

ঢাকা লেইকসিটি থেকে আসা তান্নী,তুবা ও তাহা নামের তরুণীরা বলেন,‘স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় আমরা প্লান করেছি ঘুড়বো। তাই ঠিক করেছি চায়ের রাজধানীতে যাবো, তাই চলে এলাম। মূলত আমরা সমুদ্র দেখতে বেশি ভালোবাসি। তবে সমুদ্র থেকে চা বাগানকে খুব ভালবাসি। তাই বার বার ছুটে আসি। চা-গাছগুলো ছুঁয়ে দেখলাম। বেশ ভালো লাগলো। আসলে একেক জায়গার সৌন্দর্য্য একেক ধরনের। চা-বাগান যে এত ভালো লাগে এজন্য বার বার আসি আমরা। আমরা চলে যাচ্ছি ঠিক তবে আবার আসবো। তবে আমরা পত্রিকার পাতায় দেখতাম দুটি পাতার একটি কুড়ি নামে পরিচিত এই কমলগঞ্জ তা আসাতে বুঝতে পারলাম আমরা’

কমলগঞ্জ জীব বৈচিত্র্য রক্ষা সভাপতি মানজুর আহমদ আজাদ মান্না বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান থাকায় যেকোনো লম্বা ছুটিতে জেলায় প্রচুর পর্যটক আসেন। আর পর্যটকদের বড় অংশ রাতযাপনের জন্য বেছে নেন কমলঞ্জের বিভিন্ন রিসোর্ট। সেখানে ছোটবড় অনেক হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। পর্যটকেরা এসব হোটেল-রিসোর্টে থেকেই মূলত পুরো জেলায় ঘুরে বেড়ান।

Manual8 Ad Code

ট্যুর গাইড মো. আহাদ মিয়া বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার দশমীর ছুটির পরের দিন অনেকেই ঐচ্ছিক ছুটি নেন। এরপর শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি এবং রোববার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)এর ছুটি। এসব ছুটি মিলিয়ে চার দিন ধরে কমলগঞ্জে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। কমলগঞ্জে বেশির ভাগ হোটেল-রিসোর্টে কক্ষ খালি নেই। প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে আছে। শীতের সিজনে যদি এভাবে পর্যটক আসেন, তাহলে করোনা ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।

Manual1 Ad Code

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, ‘যেভাবে পর্যটকরা আসছেন কমলগঞ্জে যদি এভাবে থাকে তাহলে করোনার সময় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পারবো।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘অতিরিক্ত পর্যটক এলে বনের বন্যপ্রাণী দৌড়ে অনেকটা গভীর অরণ্যে চলে যায়, বনের প্রাকৃতিক নীরবতাও বজায় থাকে না। তাছাড়া বনে অনেক ধরনের গুল্ম রয়েছে, যা পর্যটকদের পায়ে পিষ্ট হয়ে যায়।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code