বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট-ছাতক রেলপথ; স্বাভাবিক হবার কোন লক্ষণ নেই
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: চলতি বছরের দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে সিলেট -ছাতক রেলপথ। ক্ষতি হয়েছে প্রায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। পানির তীব্র স্রোতে রেললাইনের অধিকাংশ স্থানে স্লীপারের নিচের মাটি ও পাথর সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্তের। পানির বেগে রেললাইন উপড়ে গেছে একাধিক স্থানে। পায়ে হেঁটে চলাচলকারী পথচারীরা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফলে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ থাকা ট্রেনের এই পথটি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে রয়েছে সর্বমহলের মধ্যে অনিশ্চিয়তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় সিলেট হতে ছাতক পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি ১৯৫৪ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করার পর থেকে এই রেলপথটিতে তার আপন গতিতে ট্রেন চলাচল শুরু করে।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় রেললাইন বিধ্বস্ত হওয়ায় সিলেট-ছাতক রুটে বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই মাসেও এ লাইন মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে বালু, পাথর, চুনাপাথর, চুন, সিমেন্ট, শিল্পকারখানার কাঁচামাল সহজে ও কম খরচে পরিবহনের জন্য ১৯৫৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছিলো সিলেট-ছাতক রেলপথ।
কমলা লেবু ও তেজপাতাসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ার জন্যই মূলত এ রেলপথ নির্মিত হয়েছিল। রেলপথে ভাড়া কম হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ গন্তব্যে যেতে ট্রেন ব্যবহার করতেন। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এ রুটে ট্রেন বন্ধ থাকায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সড়কপথে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
উক্ত লাইনে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ট্রেন এ অঞ্চলের যাত্রীদের সেবায় একনিষ্ট এবং সিলেট শহরের সহিত যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রুপে ভুমিকায় ছিল। ট্রেনে প্রায় ৪৫ মিনিটে ছাতক হতে সিলেট পৌঁছাতেন মানুষজন। সিলেট হতে ছাতক পৌঁছাতে ট্রেন পথিমধ্যে খাজাঞ্চি -সৎপুর-আফজলাবাদ এই তিনটি ষ্টেশনে যাত্রা বিরতি করে। এই সব ষ্টেশন থেকে এলাকার প্রায় কয়েক হাজার মানুষ সিলেটে আসা-যাওয়া করতো।
সিলেটে পৌঁছাতে এক সময় এই ট্রেনই ছিল যাতায়াতের একমাত্র বাহন। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত; ১৯৮৬ সালের পর থেকে এই রেলপথে মন্দাভাব দেখা দেয়। শিল্পনগরী ছাতক থেকে চুনাপাথর, সিমেন্ট, স্লীপার, বালু, বোল্ডার পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো এ রেলপথে। করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে দীর্ঘ আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর এবার দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় রেললাইনের একাধিক জায়গায় উপড়ে গিয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সেই রেললাইন আদৌ কি মেরামত হবে বা মেরামত করে কবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে এ প্রশ্ন এই অঞ্চলের ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণের।
সব সময় ট্রেনে যাতায়াতকারী সফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে সিলেট-ছাতক রেললাইন আজ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জানিনা কোন অযুহাতে রেল কর্তৃপক্ষ মেরামতের উদ্যোগ নিতে এতো বিলম্ব করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সিলেট-ছাতক রেললাইনের ১০টি স্থানে এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার রেলপথ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানের পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে রেলপথের পাথর আর মাটি। দেখা দিয়েছে ছোটবড় ভাঙন।
সিলেট অঞ্চলের রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভয়াবহ বন্যার কারণে সিলেট-ছাতক রেলপথের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed