ময়লা-আবর্জনার স্তুপে জাবি ক্যাম্পাস, প্রশাসনের নেই কোন উদ্যোগ
জাবি প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, ননয়নাভিরাম লেক, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ময়লা আবর্জনার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এবং তা অপসারণে যথাযথ ব্যাবস্থা না নেওয়ায় ক্যম্পাসের অপরূপ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
ক্যম্পাসের বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বটতলার লাইব্রেরি সংলগ্ন রাস্তায় ময়লার বিশাল স্তুপ জমে আছে। এছাড়া, টারজান পয়েন্ট, শহীদ রফিক জব্বার হল, ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টের দোকানগুলোর পিছনে ময়লা আবর্জনার স্তুপ চোখে পড়েছে।
পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও জনসচেতনতার অভাব এবং প্রসাশনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবেই মূলত ক্যম্পাসে ময়লা আবর্জনার এসব স্তুপ জমে উঠেছে।
ক্যম্পাসের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা বটতলায় মাত্র দুইটি ডাস্টবিন চোখে পড়েছে। এছাড়া, মুরাদ চত্ত্বরে একটি, ট্রান্সপোর্টে ৩টি, চৌড়ঙ্গীতে ১টি ডাস্টবিন রয়েছে। ব্যাস্ততম এসব এলাকার জন্য গুটিকয়েক ডাস্টবিন যথেষ্ট না। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় শিক্ষার্থী, বহিরাগতসহ সকলেই যত্রতত্র ময়লা ফেলছে। সচেতনতার অভাবেও অনেকে যত্রতত্র ময়লা ফেলে। তবে জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও প্রশাসনকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি।
বটতলাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে ওঠা খাবারের দোকানের বর্জ্য দোকানিরা দোকানের আশেপাশেই ফেলে। অনেকদিন থেকে দোকানের পাশেই ময়লা ফেলার এই প্রথা চলে আসলেও প্রশাসনকে এবিষয়ে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি।
এসব ময়লা আবর্জনার স্তুপ যেমন ক্যম্পাসের জীববৈচিত্র বিনষ্ট করছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুকিতেও ফেলছে। শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধনের কারণে এসব স্থানের পাশ দিয়ে যেতে দুর্ভোগে পড়েন বলে জানিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংষ্কৃতি ইনস্টিটিউট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাদ নিলয় বলেন, ‘আবর্জনার স্তুপের কারণে বটতলার সামনে দিয়ে লাইব্রেরিতে যাওয়ার রাস্তা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বিকট দুর্গন্ধের কারণে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায় না। হলগুলো থেকে এই রাস্তা দিয়ে লাইব্রেরি যেতে অনেক কম সময় লাগে। কিন্তু রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ হতে সৃষ্ট দুর্গন্ধের ফলে অন্য রাস্তা দিয়ে লাইব্রেরি যেতে হয়। যার ফলে অনেক সময় নষ্ট হয়।’
দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম খলীল ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘হলের বাইরের দোকানগুলোতে খেতে গেলে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এতে করে খাওয়ার রুচি হারিয়ে যায় এবং অস্বস্তি বোধ হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যে এর বিরুপ প্রভাব পড়ে। আশাকরি দ্রুতই বর্জ্য নিরসনে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
এবিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এস্টেট) মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন বলেন, ‘দোকানিদের ময়লা ফেলানোর জন্য নীল ড্রাম দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ড্রামে ময়লা না ফেলে বাইরে ফেলে। আমাদের লোক তাদের কাছে প্রতিনিয়ত ময়লা নিতে যায়। তবে তারা আমাদের লোকেদের ময়লা না দিয়ে, দোকানের পাশেই ফেলে দেয়। তাদের গোড়ামির কারনেই ময়লা আবর্জনার এসব স্তুপ সৃষ্টি হয়েছে।’
তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিব এবং তারা যেন পুনরায় বাইরে ময়লা না ফেলে সেটা সুনিশ্চিত করবো। তবে শুধু আমাদের ব্যবস্থা নিলেই হবে না, সবাইকে এবিষয়ে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীসহ সবাই সচেতন হলে ক্যম্পাস অনেকাংশে বর্জ্যমুক্ত হবে।’
বটতলার সামনের বর্জ্যের স্তুপ পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে ওখানে বর্জ্যের স্তুপ তৈরি হয়েছে আমি জানতাম না। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। দ্রুতই আমি সেই স্থানে যাবো এবং সেখানকার বর্জ্য পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করবো।’
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এইচ এম সা’দৎ এ বিষয়ে বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এর আলাদা কোনো বাজেট নেই। পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চলে দোকানিদের থেকে টাকা তুলে। আমরা ভলিন্টিয়ার হিসেবে কাজ করি। এর জন্য আলাদা করে কোনো টাকা দেওয়া হয় না। আমাদের কোনো লোকবল নেই। যারা কাজ করে তারা দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বাজেট না দেওয়া হয় তাহলে বর্জ্যের এই সমস্যার সমাধান সম্ভব না।’
Related News
সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কানাডায় পাঠানোর নামে প্রতারণা, ভুয়া ভিসা-পাসপোর্ট তৈরি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে মানবপাচারেরRead More
জাতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠিত
বিশেষ সংবাদদাতা: মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল মহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টিরRead More



Comments are Closed