Main Menu

পাবনায় হেযবুত নেতাকে খুনের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : গত ২৩ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাতে অরাজনতৈকি আন্দোলন হেযবুত তওহীদের পাবনা র্কাযালয়ে আন্দোলনকারী সদস্যদরে উপর আকস্মিক হামলা চালিয়েছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন হেযবুত তওহীদের একজন কর্মী, আহত হন আরো দশজন। রাত সাড়ে আটটার সময় হামলার ঘটনাটি ঘটে।

এই বর্বরোরচতি হামলা ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন হোসেন বখত চত্তরে মানববন্ধনের আয়োজন করে সুনামগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদ। এতে মূল বক্তব্য রাখেন হেযবুত তাওহীদের জেলা কমিটির নেতা মো: জাকির হোসেন।

আরো বক্তব্য রাখেন জেলা সাধারণ সম্পাদক আহমদ রোমান সরকার, জেলা হেযবুত তওহীদের সাধারন সম্পাদক দেওয়ান তাসাদ্দুক রাজা ইমন, দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো: রুহুল আমিন, জেলা নারী নেত্রী মাফিকুল বেগম সোহানা, মো: ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।

তারা ন্যাক্কারজনক এ হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানান। পাবনা শহররে চরঘোষপুর ৮ নং ওয়ার্ডের ভাটামোড় এলাকায় অবস্থতি কার্যালয়ে জেলা সভাপতি সেলিম শেখ আন্দোলনের ১৫/১৬ জন সদস্যকে নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করছলিনে। হঠাৎ করে ‘হেযবুত তওহীদের আস্তানা ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, শ্লোগান দিতে দিতে র্কাযালয়ে ঢুকে পড়ে একদল সশস্ত্র হামলাকারী। তাদের হাতে ছিল ধারালো চাপাতি, হাঁসুয়া, রাম দা, লাঠিসোটা, জিআই পাইপ, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র। কোনো কথা না বলে তারা বৈঠকে উপস্থিত সবার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্ররে আঘাতে দশজন সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন যাদের একজন পরর্বতীতে মারা যান। রাতেই দুজনকে জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে মো. সুজন (৩৩) রাত আড়াইটায় মারা যান এবং গুরুতর আহত আমিনুল ইসলাম (২৭) সেখানে আইসিইউ-তে রয়েছেন, যার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আলামনি শেখ (২৭) ও সেলিম শেখ (৪১) সহ অন্য ছয়জন। হামলাকারীদরে সংখ্যা প্রায় ৪০/৫০ জনের মত ছিল। তবে কার্যালয়ের বাইরেও আরো অনেক সন্ত্রাসী অবস্থান করছিল। হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ পাবনা সদর থানায় ফোন করে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম পৌঁছাতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা লেগে যায়। পুলিশ পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জেলা সভাপতি সেলিম শেখ বাদি হয়ে চিহ্নিত ১৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে রাতেই মামলা দায়ের করেন।

আসামীরা হচ্ছে (১) মো. আলাল (৪৮), পিতা-মৃত হারেজ শেখ, (২) মো. আল আমিন (২২), (৩) মো. এনামুল শেখ (২০) উভয় পিতা-মোঃ আলাল শেখ (৪) মো. ইমরান মোল্লা (১৯), পিতামৃত ইমারত মোল্লা (৫) মো. বাপ্পি (১৮), পিতা মো. রাসেল ওরফে ভোলা শেখ (৬) মো. মারুফ শেখ (২৫), পিতা মো. আছব শেখ (৭) মো. রাসেল ওরফে ভোলা শেখ (৩৫), পিতা মৃত আফা শেখ, (৮) মো. হোসাইন (৩০) পিতা মো. বাদশা শেখ (৯) মো. বকুল শেখ (৩০), পিতা মো. আনছার শেখ (১০) মো. শান্ত (২২), পিতা মো. জালাল শেখ (১১) মো. আজিম শেখ (৩২), পিতা মো. জুলমত শেখ (১২) মো. সুমন শেখ (৩২), পিতা: মোঃ উম্মত শেখ (১৩) মো. শিমুল মন্ডল (৩৫), পিতা মো. ফজুল মন্ডল, (১৪) মো. রাফি ডাক্তার (৪৫) পিতা মৃত রওশন মন্ডল প্রমুখ।

মানববন্ধনে হেযবুত তওহীদ সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি বলেন, হেযবুত তওহীদ যেহেতু জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তাই বেশ কিছুিদন থেকেই আমরা উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের একটি হামলার ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়েছিলাম। তারা বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন থেকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল এবং অপপ্রচারমূলক মিথ্যা বক্তব্য সংবলতি হ্যান্ডবিল এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতে গত মাসেই আমরা পাবনা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছিলাম। সাধারণ ডায়রি নং-৩৯৭, তারিখ: ০৬/০৭/২০২২। প্রশাসন সাধারণ ডায়রিটিকে আমলে নিয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। নইলে আজকের এই ঘটনা ঘটত না।’ তিনি এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরো বলেন, ‘যারা এ হামলা চালিয়েছে এবং যারা পেছন থেকে ইন্ধন যুগিয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মীয় সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন তারা সন্ত্রাসী। কাজেই তাদেরকে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে।

0Shares





Related News

Comments are Closed