ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলার পর দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মামলার বাদী ও তার ১৫ বছরের মেয়েকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরে জিম্মি দশা থেকে রেহাই পেয়ে ভোক্তাভোগী নারী গত বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ওসমানীনগর থানায় দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (মামলা নং-৩(৮)’২২) করেন।
অভিযোগ পেয়ে মামলা রেকর্ড পূর্বক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার গোয়ালাবাজার সুপ্রিম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মতিন খাঁন (৩৬) এবং ওই ফিলিং স্টেশনের পার্শ্ববর্তী বগুড়া হোটেলের মালিক বুলবুল ফকির (৩২)।
জানা যায়, গত ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহ ধরে একাধিকবার ১৫ বছরের একটি মেয়েকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় মেয়ের মাকেও ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৩ মাস থেকে ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকার সুপ্রীম ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন বগুড়া হোটেলে বুয়ার কাজ করতেন নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা ওই নারী। কর্মস্থলের পাশে ১৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। বগুড়া হোটেল মালিক বুলবুল এবং সুপ্রীম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মতিন একে অপরের বন্ধু। মতিন প্রায় সময় ওই নারীর বাসায় আসা যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ফুসলিয়ে ওই নারীর ১৫ বছরের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
১৪ জুন সন্ধ্যায় মতিন কৌশলে ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে মেয়েকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালে ২০ জুলাই মতিন ওই মেয়েকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সিলেট শহরের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২/৩ বার ওই মেয়েকে ধর্ষণ করে মতিন। ২/৩ দিন পর মেয়েটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মাকে খুলে বলে। মেয়ের মা বিষয়টি তার হোটেল মালিক বুলবুলকে অবগত করলে বুলবুল মেয়ের মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।
গত ১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে মতিন ও বুলবুল দুই বন্ধু একসাথে ওই নারীর বাসায় যায়। সেদিন মতিন মেয়েকে এবং বুলবুল মেয়ের মাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দেয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে ওই নারী ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনায় ভোক্তাভোগী নারী ৪ আগস্ট ওসমানীনগর থানায় দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর পর ওই দিনই ধর্ষণের অভিযোগে দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ব্রাহ্মনগ্রামের মৃত সিকান্দার খাঁনের পুত্র মতিন খাঁন (৩৬) ও বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মৃত বাবুল ফকিরের পুত্র বুলবুল ফকির (৩২)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবিনয় বৈদ্য বলেন, মামলা দায়েরর পর অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার গোয়ালাবাজর থেকে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা ওই নারী বুলবুলের বগুড়া রেস্তোরাঁয় প্লেট ধোয়া ও মসলা বাটার কাজ করার সুবাদে পার্শ্ববর্তী স্থানে মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। সেই সুযোগ নেয় অভিযুক্তরা। তারা মা-মেয়ে দু’জনকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। জিম্মি দশা থেকে রেহাই পেয়ে মেয়েটির মা থানায় অভিযোগ করেছেন। তাদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি ও গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
Related News
সিলেটে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বালাগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একসঙ্গে তিন বন্ধু সড়ক থেকে খাদে পড়েRead More
জৈন্তাপুরে মানব পাচারকারী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুরে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই নারীকে ভারতে পাচারের চেষ্টারRead More



Comments are Closed