শাবি ছাত্র বুলবুল হত্যা, সাথে থাকা ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ
শাবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল আহমদকে প্রেমঘটিত কারণে হত্যার সন্দেহ করা হচ্ছে। সহপাঠীরা বলছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় যখন ছুরিকাঘাত করা হয়, তখন সঙ্গে ছিলেন তার কথিত প্রেমিকা। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে মঙ্গলবার বিকেলে কাউকে না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরে তাকে ক্যাম্পাসে পাওয়া যায়। সাথে সাথে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
শাবি প্রক্টর ইশরাত ইবনে ইসমাইল বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় আমরা তাকে কাল এই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। আজ বিকেলে সে আমাদের কিছু না বলে চলে গেছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, হাসপাতালের কাউকেও সে কিছু বলেনি।’ আমরা দ্রুত চেষ্টা করছি অপরাধীকে শনাক্ত করতে। যাওয়ার আগে তিনি হাসপাতালে থাকা সহপাঠীদের কিছু বলেছেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সহপাঠীদের ওই ছাত্রী বলেছেন, তিনি একটু আলাদা হয়ে মোবাইলে জরুরি কথা বলবেন। আর ওই সময়ে নজরদারিতে থাকা পুলিশ সদস্য খেতে গিয়েছিলেন।’
বাংলা বিভাগের ওই ছাত্রীকে মঙ্গলবার সকালেই হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘কালকের ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ওই ছাত্রী। সকালে আমরা তাকে হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, তিনি কিছু লুকাচ্ছেন। তবে অসুস্থ থাকায় তাকে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে সোমবার বুলবুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল রোমান। তিনি বুলবুলের ঘনিষ্ঠ বড় ভাই হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। সেই সুবাদে তার সঙ্গে ওই মেয়েটির কথাবার্তা হতো।
রোমান বলেন, ‘ওই মেয়ে আর বুলবুলের সম্পর্ক ছিল। কাল বিকেলে তারা ক্যাম্পাসের গাজীকালুর টিলায় যায়। সেখানে ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এরপর পরই ওই মেয়ে আমাকে মেসেঞ্জারে নক দেয়। আমি তাতে রেসপন্স না করায় ৮টার দিকে সে আমার মোবাইলে কল দিয়ে জানায়, বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ছিলাম। বুলবুলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আমি হাসপাতালে নিয়ে যাই। এ সময় ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে যেতে বললে সে রাজি হয়নি।’
গাজীকালুর টিলা থেকে বুলবুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের দলে ছিলেন ইশফাকুর রহমান ফাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি তখন ওই টিলায় উঠছিলাম। এ সময় এক মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। এরপর আমিসহ আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে বুলবুলকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে আসি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (গগণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের জানা, শাবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সন্দেহভাজন বহিরাগত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীকালুর টিলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন বুলবুল আহমেদ নামের ওই শিক্ষার্থী। পড়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed