সিলেটে ৫ লন্ডনী হতাহতের ঘটনায় শ্বশুর-শাশুড়ীসহ ৪ জন জিজ্ঞাসাবাদে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে একই পরিবারেরর ৫ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহত রফিকূল ইসলামের শশুর আনফর আলী, শাশুড়ী বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী শোভা বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্ব-পরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন ওসমানীনগর উপজেলার ধিরারাই গ্রামের রফিকুল ইসলাম। অসুস্থ ছেলে সাদিকুল ইসলামকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য গত ১২ জুলাই স্বপরিবারে দেশে ফিরে এক সপ্তাহ ঢাকায় থাকেন। চিকিৎসা শেষে গত ১৮ জুলাই উপজেলার তাজপুর স্কুল রোড এলাকার তাজপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলকের মালিকানাধীন পাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাসা ভাড়া নেন।
সোমবার (২৫ জুলাই) রাতের খাবার শেষে প্রবাসী রফিকূল তার স্ত্রী সন্তানসহ একটি কক্ষে এবং রফিকুল ইসলামের শশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন, শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগম ও মেয়ে সাবিলা বেগম (৮) অন্যান্য কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার সকালে বাসার সুস্থ স্বজনরা ডাকাডাকি করে প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ তার স্ত্রী-সন্তানরা ঘরের দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে কল করেন।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইসলামসহ তার স্ত্রী হুছনারা বেগম, ছেলে মাইকুল ইসলাম. সাদিকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিয়া ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এসময় কর্তব্যরত ডাক্তার রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি তিনজনকে আইসিইউতে প্রেরণ করেন।

নিহতরা হচ্ছেন, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতুপুর) গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬)। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন সিলেটের পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা। এছাড়া পিবিআই ও সিআইডির দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জানা যায়, যে বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই বাসায় ৩টি শয়ন কক্ষ, ১টি রান্নাঘর, ১টি খাবার কক্ষ রয়েছে। যে কক্ষে প্রবাসী পরিবারের ৫ জন ঘুমিয়ে ছিলেন কক্ষটির আসববাপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।
প্রবাসী হুছনারা বেগমের চাচাতো ভাই গোলাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা এসেছি। কে বা কারা কিভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা জানি না। আমার বোনের পরিবারের সাথে কারো শত্রুতা নেই।
নিহত রফিকুল ইসলামের ভায়রা ভাই সাজ্জাদ আহমদ জানান, ভায়রা রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসা দিতে গত ১২ জুলাই দেশে ফিরেছেন। ঢাকা থেকে ফেরার পর শশুড়-শাশুড়িসহ অন্যান্যদের দিয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন। তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের খবর পেয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।
ভবনের মালিক তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলক জানান, কেয়ার টেকারের সাথে আলোচনাক্রমে বাসা বাড়া নিয়ে ওই প্রবাসী গত এক সপ্তাহ থেকে পরিবার নিয়ে ভবনের ২য় তলায় বসবাস করায় আমার সাথে তাঁর কোনো দেখা সাক্ষাত হয়নি। মঙ্গলবার আমি আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় থাকা অবস্থায় ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এমন মর্মান্ত্রিক দৃশ্য দেখতে পেয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় তাদের হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, বিষক্রিয়ার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিভাতে বিষক্রিয়া ঘটেছে তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়। যেসকল নিকট আত্মীয় বাসায় ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, একই বাসায় এক কক্ষে প্রবাসী ৫জন অচেতন ছিলেন। বাকি ২ কক্ষে তাদের পরিবারের লোকজন ছিল। পিবিআইয়ের লোকজন আসবে। আহতদের জ্ঞান ফিরলে এবং পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed