মাঙ্কিপক্স নিয়ে যে কারণে ‘জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা’ জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্বব্যাপী ‘জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা’ জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ সতর্কতা জারির পর মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব আন্তর্জাতিক উদ্বেগের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থারই বহিঃপ্রকাশ।’ খবর এনডিটিভির।
ডব্লিউএইচও বলছে, মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব যা বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সঠিক গোষ্ঠীর সঠিক কৌশলের মাধ্যমে তা বন্ধ করা যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭৫টি দেশ থেকে ১৬ হাজারের বেশি মানুষের মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাদুর্ভাবের ফলে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
জাতিসংঘের এ স্বাস্থ্য সংস্থাটির মতে, তারা একটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কারণ মাঙ্কিপক্স মোকাবিলায় কার্যকর তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি অন্যান্য সব ক্ষেত্রে দেশগুলোর এখন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সের জন্য বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এতে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
শনিবার মাঙ্কিপক্স ভাইরাস সম্পর্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে এ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী ‘জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা’ জারির ঘোষণা দেয়া হয়।
এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের বিস্তার আন্তর্জাতিক উদ্বেগের পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সারা বিশ্বের সরকারগুলো মাঙ্কিপক্সের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালালেও, এটি আরও ছড়িয়ে পড়ার ‘সুস্পষ্ট ঝুঁকি’ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো দুই শিশুর শরীরে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (২২ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি নবজাতক ও একটি শিশু সংক্রামক এ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে নবজাতকটি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা নয়।
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিএস) জানায়, এ দুটি সংক্রমণের ঘটনায় তারা বাইরের কারো সংস্পর্শে আসেনি। পরিবার থেকেই তারা সংক্রমিত হয়েছে। চলতি বছর বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ১৪ হাজার মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর এতে আক্রান্ত হয়ে আফ্রিকায় মারা গেছে পাঁচজন।
সিডিসির হাই কনসিকোয়েনস প্যাথোজেনস অ্যান্ড প্যাথলজি বিভাগের উপপরিচারক ডা. জেনিফার ম্যাককুইস্টিন বলেন, শিশুদের শরীরে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হওয়ায় বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমকামী, উভকামী কিংবা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা পুরুষের বাইরে কেউ এতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইউরোপ হলো মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল। কারণ, নিশ্চিত হওয়া মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগীর ৯০ শতাংশই এ অঞ্চলের। চলতি বছরের ১৫ জুন থেকে এ পর্যন্ত ইউরোপে নতুন সংক্রমণ বেড়েছে তিনগুণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্স বসন্তের একটি বিশেষ ধরন। সংক্রামক হলেও রোগীর সংস্পর্শে না এলে এই রোগ ছড়ায় না। বিভিন্ন বানর জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এ ছাড়া শ্বাসনালি, শরীরে তৈরি হওয়া কোনো ক্ষত, নাক কিংবা চোখের মাধ্যমেও অন্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস।
Related News
পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পর্যালোচনা চালানোর অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ দিয়েছেRead More
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার উত্তর-পূর্ব জাভা প্রদেশের তেলুকনাগা এলাকার কাছে ৬.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাতRead More



Comments are Closed