Main Menu

বিক্ষোভের মুখে বাসভবন ছেড়ে পালালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে চলা বিক্ষোভের মুখে শনিবার (৯ জুলাই) নিজের সরকারি বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে।

প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সৈন্যরা তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে এএফপি, রয়টার্স ও এনডিটিভি। বিক্ষুদ্ধদের মোকাবিলায় তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

সরকারবিরোধী টানা বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে। ছাত্র–জনতা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ ও দ্রুত অর্থনৈতিক সংকট দূর করার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রচুর মানুষ রাজধানী কলম্বোতে ঢুকে পড়েছে।

এরআগে, শনিবার বড় বিক্ষোভ করার ঘোষণা দেন সরকারবিরোধীরা। তারা মিছিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে যাওয়ার কথা জানান। অন্যদিকে এই বিক্ষোভ দমাতে এবং পরিস্থিতি সামলাতে শুক্রবার কলম্বো ও কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলার ঘোষণা দেয় পুলিশ। এ সময় সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এ কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবনে ঢুকে পড়েন।

কারফিউ জারির পর প্রেসিডেন্ট ভবনসহ কলম্বোর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। টহল দেয় সশস্ত্র সেনা। শুক্রবার বিকেলে প্রায় ২০ হাজার সেনা–পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ করে চলতে হচ্ছে দেশটিকে। এর মধ্যে কলম্বো বেশিরভাগই ঋণ পেয়েছে চীনের কাছ থেকে। ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বহুদিন আগে থেকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বেইজিং, যাকে ঋণ-ফাঁদ বলে সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমারা। তবে কলম্বোর সংকট গভীর হতে থাকায় মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে চীন। চীনা ও আন্তর্জাতিক ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা একদিকে বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না, অন্যদিকে দেশজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে চলছে বিক্ষোভ।

ইতিহাসের ভয়াবহতম অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলঙ্কা ‘দেউলিয়া’ হয়ে গেছে বলে গত বৃহস্পতিবারই মন্তব্য করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। মারাত্মক আর্থিক সংকেট পড়া শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক রিজার্ভ বলে আর কিছু নেই। তাই দেশটি খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির মত অতি জরুরি আমদানি প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি সেবার জন্যও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

Manual7 Ad Code

এদিকে নজিরবিহীন এ বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। পার্লামেন্ট স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দেনার সভাপতিত্বে শনিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বৈঠক শুরু হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে বলেছেন, সর্বদলীয় এ বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা মেনে নেবেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আদাদেরানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টে জরুরি সর্বদলীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। তবে এতে প্রধান বিরোধী দল সাসাজি জানা বালাওয়েগায়া পার্টি (এসজেবি) বৈঠকে অংশ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহের ডাকা বৈঠকে আগেই বয়কটের ঘোষণা দেন এসজেবির নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা।

Manual5 Ad Code

শ্রীলঙ্কা একটি মধ্য আয়ের দেশ ছিল। জনগণের মাথাপিছু জিডিপি ফিলিপিন্সের সঙ্গে তুলনীয় ছিল তখন। লঙ্কানদের জীবনযাপনের মান প্রতিবেশী ভারতের জন্য ঈর্ষণীয় বলে বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও করোনা মহামারিতে পর্যটনশিল্পে ধস নামায় দেশটির ডলার ফুরিয়ে গেছে। যে কারণে তারা আমদানির প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

Manual5 Ad Code

২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে গ্যাসও ফুরিয়ে এসেছে। আবার পাওয়া গেলেও তার দাম এতই বেশি যে মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কেউ কেউ কেরোসিনের চুলায় রান্নার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পেট্রল ও ডিজেল আমদানির মতো পর্যাপ্ত ডলার নেই সরকারের কাছে।

Manual5 Ad Code

মূলত রাজাপাকসে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলতি বছরের শুরু থেকেই ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। মে মাসের শুরুর দিকে বিক্ষোভ হঠাৎ চরম রুপ নেয়। পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়। আহত হয় আরও অন্তত ৩০০ জন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code