Main Menu

আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালি

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে আইআরজিসি ‘প্রকাশ্য হামলা’ চালানোর পর মার্কিন বাহিনী চলতি সপ্তাহে ইরানে তৃতীয় দফার হামলা পরিচালনা করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরানের হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি আর যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি। এই ঘটনায় একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির মুখে পড়ার পরও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মেনে চলার আরেকটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ইরানকে। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই বিবৃতি শেয়ার করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের এর উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে।’

Manual2 Ad Code

এদিকে রোববার (১২ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, অনুমোদিত নৌপথের বাইরে দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করায় একটি জাহাজে নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বারবার নির্দেশনা অমান্য করায় সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে জাহাজটিকে থামানো হয়। আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ নেয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নতুন সামরিক ঘাঁটিও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে ওমানের জলসীমা ঘেঁষে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়। ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা হয়ে যাওয়া পথই একমাত্র ‘নিরাপদ’ রুট। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হন। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালায়।

Manual1 Ad Code

এই ঘটনার পর দুই দেশের উত্তেজনা চরম আকারে পৌঁছে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের হামলার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও চলবে এবং মধ্যস্থতাকারীরা সমঝোতা পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছেন।

Manual4 Ad Code

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তেলবাহী জাহাজে হামলা ছিল ভুলবশত এবং এর জন্য দেশটির ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন গোষ্ঠী দায়ী। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিতে হবে বলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ইরানের কাছে সাফ দাবি জানিয়েছেন।

 

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code