বন্যায় সিলেট জেলায় ৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চলতি বন্যায় সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন, বন্যায় পানিতে ডুবে তিনজন মারা গেছেন।
সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটে। এতে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে দুর্গত মানুষের তথ্য আদান-প্রদানে বিঘ্ন ঘটে। বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনস্থাপিত হলেও কিছু এলাকা এখনও বিদ্যুৎহীন।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে লড়াই করে কোনো মতে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে উপদ্রুত এলাকা থেকে উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগ দেয় সেনা সদস্য ও নৌবাহিনী।
রোববার (১৯ জুন) থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। আর উপদ্রুত এলাকাগুলোর সঙ্গে ক্রমশ যোগাযোগ বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে মৃত্যুর খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দাদী-নাতিসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে কান্দিগাঁও ইউনিয়নে নিহতরা হলেন- সদর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এ কে আবুল কাশেম (২৪) ও তার দাদী ছুরেতুন নেছা (১০৫)। তাদের বাড়ি সুজাতপুর গ্রামে। অপরজন হলেন আব্দুল হাদি (১৮)। তিনি নলকট গ্রামের বাসিন্দা।
এছাড়া রোববার (১৯ জুন) বন্যার পানিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর খবরটিও নিশ্চিত করেছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা।
তিনি বলেন, এ কয়দিনে বিদ্যুৎহীন থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না। যে কারণে অনেক খবর মেলেনি। এখন আস্তে আস্তে চারদিক থেকে প্রকৃত অবস্থার খবর আসবে। এছাড়া আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি তার পরিবারের সঙ্গে মদীনা মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন। বন্যার পানি বাড়ার খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বৃদ্ধ দাদী ও চাচাতো বোনকে উদ্ধার করতে গত বৃহস্পতিবার সকালে একটি নৌকা নিয়ে যান। নৌকা নিয়ে দাদীকে নিয়ে শহরে ফেরার পথে সুজাতপুর আইডিয়াল স্কুল এলাকায় পানির স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় তার ছোট চাচাতো দুই বোন উল্টে যাওয়া নৌকায় ধরে প্রাণে বাঁচলেও দাদী নাতীকে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন। এতে দু’জনই পানিতে তলিয়ে যান। পরদিন শুক্রবার দাদী ছুরেতুন নেছার মরদেহ ভেসে ওঠে। রোববার সকালে আবুল কাশেমের মরদেহ একই জায়গায় ভেসে ওঠে। দু’জনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সিলেট সদরের কান্দিগাঁও ইউনিয়নের নলকট গ্রামে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে আব্দুল হাদি (১৮) নামে এক তরুণ ভেসে যান। রোববার তার বাড়ির পাশে মরদেহ ভেসে ওঠে। হাদি নলকট গ্রামের প্রবাসী কাছা মিয়ার ছেলে। নলকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক মামুন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া গত শনিবার নগরের খরাদিপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে পড়ে থাকা টিভির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে টিটু চৌধুরী (৩৫) মারা যান। তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হরিপুর গ্রামের ধীরেন্দ্র চৌধুরীর ছেলে। টিটু চৌধুরী তার মাকে নিয়ে খরাদিপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ছিলেন বলেও জানা গেছে।
অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় রোববার একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে ত্রাণ বিতরণ কাছে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed