জাবিতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ না করে একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বর্তমান লাইব্রেরী সস্থানে রেখে নতুন লাইব্রেরী নির্মাণ সহ ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাংস্কৃতিক জোটের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় গত ১৪ জুনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘চাইনা চাইনা, আরেকটা প্রশাসনিক ভবন চাইনা’, ‘লাইব্রেরী না ভেঙে, নতুন ভবন নির্মাণ করো, করতে হবে’, ‘প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন চাই না’, ইত্যাদি স্লোগান নিয়ে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে নতুন কলা ভবন, শহীদ মিনার, লাইব্রেরী, পুরাতন প্রশাসনিক ভবন হয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনের মূল গেটে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে। তিনি বলেন,‘আমাদের মধ্যে যে আন্দোলনের গণজোয়ার ছিল, যে স্ফুলিঙ্গ ছিল সেটা নিভে যায় নি। আমরা উপাচার্যকে হুশিয়ারি বার্তা দিতে চাই যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আরেকজন বাটপার ফারজানা ইসলামকে মেনে নিবে না।’
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হাত জোড় করে বলেছি আপনারা আমাদের রাস্তায় নামতে দিয়েন না, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছি, গবেষণা করতে এসেছি আপনাদের চুরি ধরতে আসি নাই। ১৪ টি স্থাপনা উদ্বোধনের একদিন আগে আমাদের মতামত নেয়া হয়েছিল, কই গেল সেই মতামত! আমরা অনুরোধ করব আপনারা সেই মতামতকে গুরুত্ব দিন।
তিনি আরো বলেন, ‘লাইব্রেরী ভবনের আরো ৩০ বছর মেয়াদ আছে সেটা ভাঙতে আপনাদের আগ্রহের শেষ নেই অথচ যে ভবনগুলোর ছাদ ভেঙে পড়ছে সেগুলো ভাঙছেন না। যদি রাতের আঁধারে চুপিচুপি ভবন ভাঙতে যান এর পরিণতি ভালো হবে না। একনেকে সরকার প্রধান বারবার বলেছেন মাস্টার প্ল্যান ছাড়া মেগা প্রজেক্ট করবেন না। এরা প্রধানমন্ত্রীর কথাও মানছেন না।’
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমিক বাগচী বলেন, ‘আপনারা জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন যে এই টাকা চলে গেলে আর টাকা পাওয়া যাবে না, কিন্তু ‘১৯ সালে নতুন হলগুলো প্রস্তাবিত জায়গা থেকে সরিয়ে জেনারেটর বাজারে এ নিয়ে গেছেন তখন কিভাবে পেরেছিলেন? এই ভয় আমাদের দেখাবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক প্রয়োজনীয় টাকা খরচ করে বাকি টাকা সরকারকে ফেরৎ দিয়ে। আমাদের টিএসসি তে তিনটা সংগঠন এক রুমে কার্যক্রম চালায়, প্রতিষ্ঠার দশ বছরেও অনেক বিভাগের পর্যাপ্ত রুম নেই এইগুলো বাদ রেখে তারা করছে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ভবন।’
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা বলতে চাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কখনো অন্যায় অবিচার দুর্নীতির কাছে মাথানত করেনি, কখনো করবেও না। তারা বলছে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যান, আমরা বলতে চাই এটা দুর্নীতির মাস্টার প্ল্যান।’
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নির্মিতব্য বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপারে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, বর্তমান লাইব্রেরি ভবন না ভেঙে নতুন লাইব্রেরি নির্মাণ, শিক্ষকদের ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক ভবন ভেঙে সেখানে তাদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে মানানসই নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিতে তদারক কমিটি গঠন।
Related News
সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কানাডায় পাঠানোর নামে প্রতারণা, ভুয়া ভিসা-পাসপোর্ট তৈরি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে মানবপাচারেরRead More
জাতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠিত
বিশেষ সংবাদদাতা: মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল মহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টিরRead More



Comments are Closed