জাবির সাবেক উপাচার্যকে বাসভবন থেকে অপসারণের হুঁশিয়ারি
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বাসভবন ছেড়ে না দেওয়ায় তাকে বাসভবন থেকে অপসারণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ।
সোমবার (৪ এপ্রিল) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী কর্তৃক সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছ, ‘সাবেক উপাচার্য কর্তৃক উপাচার্যের বাসভবন দখল করে রেখে প্রশাসনিক স্থবিরতা সৃষ্টি করা অন্যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস পরেও উপাচার্যের বাসভবন দখল করে রাখা অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের দুর্নীতিপরায়ণতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মপ্রীতির প্রমাণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস পরেও উপাচার্যের বাসভবন ছেড়ে না যাওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পুনরায় উপাচার্যের দায়িত্বে এসে চলমান মেগা প্রজেক্টে অতীতের ন্যায় দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রাখতে ফারজানা ইসলাম যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তা প্রমাণিত হয়।
এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল রনি এবং সাধারণ সম্পাদক তাসবিবুল গনি নিলয় বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর আন্দোলনের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের দুর্নীতিবাজ ও নিপীড়ক চরিত্র সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষের সামনে অনেক আগেই স্পষ্ট হয়েছে। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরেও বাসভবন ছেড়ে না যাওয়া এবং নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালানো তার চূড়ান্ত নির্লজ্জতার আরেকটি প্রমাণ।’
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ফারজানা ইসলাম সাবেক উপাচার্য হওয়া সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে একজন উপাচার্যের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ থেকে আমরা জানতে পারি যে, উপাচার্যের বাসভবনটি দখল করে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৯ জন কর্মচারীকে খাটানো হচ্ছে। আমরা এও জানতে পেরেছি যে, তাঁর পরিবার নিয়মবহির্ভূতভাবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২টি গাড়ি ব্যবহার করে। তাছাড়া সম্প্রতি হাজারখানেক ফাইল আটকে রেখে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের তাঁর আজ্ঞাবহ করে রাখার ঘৃণ্য প্রচেষ্টার কথাও সংবাদপত্রের মাধ্যমে পুরো দেশের মানুষ জেনেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে উদ্ভূত প্রশাসনিক স্থবিরতার ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ সকল অংশীজন।’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়েই ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির খতিয়ান দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হয়েছিলো এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলমান। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর এ ধরণের অন্যায়, দুর্নীতি ও জবরদস্তিমূলক কর্মকান্ড পুরো দেশে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাহাঙ্গীরনগরের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করছে। ক্যাম্পাসে এই গুঞ্জনও আমরা শুনতে পাই যে, তিনি কথায় কথায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিবর্গের সাথে তাঁর একান্ত বোঝাপোড়ার দিকে ইঙ্গিত করেন। ২০১৯ সালে মেগাপ্রজেক্টে দুর্নীতির বিচার ও অপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান পর্যালোচনার দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, হামলা ও মামলাবাজ এই ব্যক্তির প্রতি সরকারের সমর্থনের ফলেই আজ অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এসব অনিয়ম, অনাচার করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন সাবেক উপাচার্য এতশত অনিয়ম, দুর্নীতি করে শাস্তির মুখোমুখি না হলে, তা বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম অবিলম্বে উপাচার্যের বাসভবন ত্যাগ না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তাকে উপাচার্যের বাসভবন থেকে অপসারণ করা হবে।’
Related News
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মঙ্গলবারRead More
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নিজেদের মেয়র প্রার্থীRead More



Comments are Closed