Main Menu

জৈন্তাপুরে ডালিম হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আলোচিত ডালিম হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে স্থানীয় ঘাটেরচটি গ্রামেরবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) বিকালে ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মখবুল আলী মখবুল, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য শরিফুল ইসলাম, সাবেক ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মছব্বির, ঘাটেরচটি গ্রামের প্রবীন মুরব্বী জিতু মিয়া সহ ঘাটেরচটি গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা, ডালিম হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীসহ এই হত্যাকান্ডে খুনি ফজর আলীর সাথে তার অন্যান্য সহযোগীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য জোর দাবী জানান।

উল্লেখ, জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের হাওরের একটি পুকুর থেকে নিখোঁজ হওয়া ডালিম আহমদের (২৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ডালিম উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ শনিবার ডালিম তার স্ত্রীকে নিয়ে শশুর বাড়ী ঠাকুরের মাটি এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে রাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেও আর বাড়ি ফিরে আসেননি। বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি শুরু করেন। নিকট আত্মীয়সহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নিয়ে কোন রকম সন্ধান না পেয়ে তার বাবা বাচ্চু মিয়া রবিবার (৬ মার্চ) জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।

সোমবার (৭ মার্চ) বিকাল ৩টায় ঘাঠেরচটি এলাকার তারেক হাজীর মৎস্য খামারের পানিতে ডালিমের ভাসমান লাশ দেখেন এক পথচারী। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও এলাকার মানুষ মৎস্য খামারে ভীড় জমায় এবং খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তখন নিহত ডালিম আহমদ’র হাত-পা বাঁধা ও মাথার পিছনে আঘতের চিহ্ন দেখা যায়।

এদিকে জৈন্তাপুরে ডালিম আহমদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ফজর আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একসময় তাঁরা দুজনে ভালো বন্ধু ছিলেন। এর মধ্যে তাঁর একটি অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে যান ডালিম। আর এটাকে পুঁজি করে বারবার ব্ল্যাকমেল করে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এই পীড়ন থেকে বাঁচতে ডালিমকে খুন করেন ফজর।

সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭ মার্চ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সোয়া সাতটা পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফজর। আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে ব্ল্যাকমেল করে বারবার ফজরের কাছে টাকা দাবি করতেন ডালিম। টাকা না দিলে বিষয়টি মানুষকে জানিয়ে দেওয়াসহ বাবুর্চির কাজ করা ফজরকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিতেন। এভাবে প্রায় দুই লাখ টাকা ডালিমকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন ফজর।

ফজরের জবানবন্দির বরাতে আদালত সূত্র জানায়, ৫ মার্চ ১৬ হাজার টাকা চেয়েছিলেন ডালিম। কিন্তু ফজরের কাছে এত টাকা ছিল না। তিনি ডালিমকে ৫ হাজার টাকা দিলেও তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় ফজরকে ঘুষি আর সঙ্গে থাকা চাকু দিয়ে আঘাত করতে যান ডালিম। এ সময় বাঁ হাতে চাকু ধরে ফেলেন ফজর। তিনিও সঙ্গে থাকা চাকু দিয়ে ডালিমের বুকে ও গলায় আঘাত করেন। এতে আহত হন ডালিম; একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান। আবার উঠে দৌড়াতে থাকলে ফজর পুনরায় দৌড়ে ধরে গলায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। পরে জৈন্তাপুরের ঘাটেরচটি এলাকায় মসজিদের পাশের মাঠে মাটি চাপা দিয়ে কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে চিকিৎসা নেন ফজর।

এর আগে ৮ মার্চ গভীর রাতে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় ডালিমের লাশ উত্তোলন করে পুলিশ। পরের দিন ডালিমের বাবা বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে ফজরকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত শুক্রবার তাঁকে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ফজর আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তাঁকে আজ আদালতে তোলা হয়।

৫ মার্চ ডালিম নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন জৈন্তাপুরেই নিখোঁজ হন শম্ভু দেবনাথ নামে আরেক যুবক। এ ঘটনার পর ৭ মার্চ ঘাটেরচটি এলাকার একটি পুকুর থেকে মুখমণ্ডল বিকৃত একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ডা‌লিম আহমদের ভেবে ৮ মার্চ দাফন করা হয়েছিল। ওই দিন রাতেই একই এলাকায় মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় আরও একটি লাশ উদ্ধার হলে প্রথম লাশের পরিচয় নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে দুই লাশের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে দেখা যায়, ডা‌লিম আহমদ ভেবে মূলত শম্ভু দেবনাথের লাশ দাফন করা হয়ে‌ছিল।

এই যুবকের খুনের ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমানের তত্ত্বাবধানে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী পুলিশ সুপারের (কানাইঘাট সার্কেল) নেতৃত্বে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ডালিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হয়। শম্ভু দেবনাথ নামের আরেক খুনের ঘটনায় তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা যায়, ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্যও দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

Share





Related News

Comments are Closed