Main Menu

চাকরির দাবিতে অবরুদ্ধ ইবি ভিসির দুই পিএস!

Manual1 Ad Code

শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম, ইবি প্রতিনিধি: চাকরির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসির দুই পার্সোনাল সেক্রেটারিকেই অবরুদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডে লেবাররা। মঙ্গবার বেলা ১টা থেকে তাদেরকে দুই ঘণ্টা ভিসি অফিসের ভিতর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।

Manual4 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, বেলা ১টায় ডে লেবারদের নেতা টিটু ও রাসেল জোয়াদ্দারের নেতৃত্বে অর্ধশত ডে লেবার ভিসি অফিস অবরুদ্ধ করে। এসময় অফিসের সহকারীদের বের করে দেওয়া হয়। ওই সময় উত্তেজিত ডে লেবাররা ভিসির পিএস আইয়ুব আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে জানা গেছে। আইয়ুব বাধ্য হয়ে ভিসি অফিসে আশ্রয় নেন। একই সময়ে ভিসির অন্য পিএস মিল্টনকেও তার অফিস থেকে বের করে দিলে তিনিও ভিসি অফিসে আশ্রয় নেন। এসময় উত্তেজিত ডে লেবাররা চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে। শ্লোগানরত ডে লেবাররা ভিসি অফিসের সামনে বসে ও দাঁড়িয়ে অবস্থান নেয়।

আন্দোলন চলাকালে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানের সাথে ডে লেবারদের পক্ষ থেকে তিনজন সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় প্রো-ভিসির অফিসে প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন ও চারুকলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে চাকরী প্রত্যাশীরা তেমন কোন আশ্বাস পাননি বলে সাংবাদিকদের জানান। এসময় তারা আবারও ভিসি অফিসের সামনে এসে শ্লোগান দিতে থাকে।

এসময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক শাহেদ আহমেদ আন্দোলকারীদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। পরে প্রায় দুই ঘন্টা পর ভিসির দুই পিএসকে ভিসি অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়।

ভিসির পিএস আইয়ুব আলীকে অবরুদ্ধ করা ও গালিগালাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের তো দাবি একটাই। একটা গ্রুপ তাদেরকে খেলাচ্ছে। আর তারা কেন আমাদেরকে অবরুদ্ধ করেছে এবং গালিগালাজ করেছে সেটা তাদের কাছে জানতে চাও।”

এর আগে আন্দোলনকারীরা রেজিস্টার অফিসে গিয়ে রেজিস্টার মু আতাউর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে জানা গেছে। একইসাথে ওই অফিসের সকল কাজ বন্ধ করতে বলা হয়।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার মু. আতাউর রহমান বলেন, তারা এসে আমাকে কাজ বন্ধ করতে বলেছে এবং তারা কেন চাকরি পাচ্ছে না সেটা জানতে চেয়েছে। আমি কি জানি নাকি কেন তাদের চাকরি হচ্ছে না?

ভিসি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম সকাল থেকে তিন ঘন্টা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম করেন। বেলা ১২টায় প্রধান ফটকে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপনের পর তার বাংলোতে প্রবেশ করেন। ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর তাকে আর অফিসে দেখা যায়নি।

এদিকে ভিসির পিএসদের ছেড়ে দেওয়ার পরপরই আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় দেড় ঘন্টা প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাসগুলো ৩টা ৩৫মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গেট আটকে রাখা হয়। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন সহকারী প্রক্টর নামমাত্র চেষ্টা করলেও খোদ প্রক্টরকের তেমন কোন ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন ভোগান্তিতে পড়া শিক্ষকরা। পরে পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তালা ভাঙতে উদ্যোত হন।

পরিস্থিতি বুঝে আন্দোলনকারীরা গেট খুলে দেন ও আগামী সোমবার প্রশাসনের দেওয়া আলোচনার আশ্বাস মেনে নেন।

Manual8 Ad Code

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, চাকরি কি মামার বাড়ির আবদার? এরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ না। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে এদেরকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে, এখন প্রয়োজন নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যখন নিয়োগ হবে তখন তাদের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। আমরা তো নিয়মের বাইরে কিছুই করতে পারি না।

Manual2 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code