Main Menu

শাবি’র ভিসি ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান শিক্ষক সমিতির

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবির) শিক্ষক সমিতির বৈঠক শেষে উপচার্যের বিষয়ে সরকারকে অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

রবিবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বৈঠক করেন শিক্ষক সমিতির শিক্ষকগণ। বৈঠক শেষে রাত সোয়া আটটায় অডিটোরিয়ামের সামনে শিক্ষক সমিতির ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারদফা দাবি হচ্ছে,
১. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে সরকার কর্তৃক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর জন্য যা যা করা দরকার তা অনতিবিলম্বে করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

৩. উপচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। এ ক্ষেত্রে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

৪. শিক্ষার্থীদের প্রতি কোন রকম সহিংসতায় সম্পৃক্ততা না হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আন্দোলনকে যৌক্তিক মনে করছে বলেই তারা আন্দোলন করছে। আমাদের এক এক জনের কাছে এক এক রকম মনে হতে পারে কিন্তু তাদের কাছে যৌক্তিক হতে পারে’।

এদিকে, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনের ১০০ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১০০ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়। এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাতজনকে ক্যানোলার মাধ্যমে লিকুইড স্যালাইন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্টারি দেওয়া হচ্ছে।

অনশনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা পানিসহ কোনো ধরনের তরল খাদ্য গ্রহণ করছেন না। যার ফলে অনেকেই নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কেউ অনশন ভাঙবেন না।

এদিকে রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন আরও চার শিক্ষার্থী। এ নিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে।

অনশনকারীদের মধ্যে বর্তমানে ১৫ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১২ জন অনশনরত অবস্থায় উপাচার্য বাস ভবনের সামনে অবস্থান করছেন।

উপচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ৩টা থেকে ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। এর মধ্যে অনশনকারী এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য অসুস্থ হওয়ায় অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে গেছেন তিনি।

উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে মানব-শেকল তৈরি করেছে। জানানো হয় পুলিশ ব্যতিত কাউকে উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

Share





Related News

Comments are Closed