Main Menu

ভিসি পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশনের ডাক

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি বুধবার (১৯ জানুয়ারী) দুপুর ১২টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশনের ডাক দিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত দশটায় ভিসি বাসভবনের সামনে প্রেস ব্রিফিং এ শিক্ষার্থীরা বলেন, “গত ১৩ (জানুয়ারি) দ্বিতীয় ছাত্রী হলে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত ১৬ জানুয়ারি ভিসি এবং প্রক্টরিয়াল বডির সামনে পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর আহত এবং একজন আইসিইউতে আছে। এরপর থেকেই এমন স্বৈরাচারি ভিসি, প্রক্টর এবং ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা আমরা চাই না। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছি।”

শিক্ষার্থী আরো বলেন, “পুলিশ আমাদের উপর হামলা করলো এবং আমাদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা ২০০/৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলো। এ মামলা যেন দ্রুত অপসারণ করে। আর ভিসি যদি বুধবার দুপুরের মধ্যে পদত্যাগ না করেন তাহলে আমরা আমরণ অনশন করে যাবো। আমরা সারা বাংলাদেশ থেকে সাপোর্ট পাচ্ছি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সাথে একমত পোষণ করেন, এমনকি দিল্লির এক বিশ্ববিদ্যালয়ও আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছে। ভিসি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা বুধবার দুপুরের পর থেকে থেকে অনশন শুরু করবো এবং আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।”

প্রসঙ্গত, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে এনে প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি আদায়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা। এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

১৬ জানুয়ারী রোববার বেলা আড়াইটার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের হলে উপাচার্যের পিছু নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় উপাচার্য ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রোববার বিকেলে এসে সহিংসতায় রূপ নেয় আন্দোলন।

এদিকে পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা আবারও জড়ো হলে পরে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

 

0Shares





Related News

Comments are Closed

%d bloggers like this: