খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয় জানাতে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং সম্পাদকমণ্ডলীর নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
২৫ নভেম্বর সারা দেশে যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশ। ঢাকায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ হবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
২৬ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল। একইভাবে মন্দির-প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা।
২৮ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ। ঢাকায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ হবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
৩০ নভেম্বর বিএনপির উদ্যোগে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ।
১ ডিসেম্বর ছাত্রদলের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ।
২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন।
৩ ডিসেম্বর কৃষক দলের উদ্যোগে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ।
৪ ডিসেম্বর মহিলা দলের উদ্যোগে মৌন মিছিল।
খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। অবিলম্বে তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দরকার। আমরা মনে করি, তাকে বিদেশে পাঠাতে আইনগত কোনো বাধা নেই। সরকার চাইলে তাকে এই মুহূর্তেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে পারেন। কিন্তু সরকারের ইচ্ছে নেই তিনি বেঁচে থাকুক। তাই তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না তারা।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকলেও তার মনোবল শক্ত আছে। তার উন্নত চিকিৎসা কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানির মতো দেশগুলোতেই সম্ভব।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা বাতিল করে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের আদেশ দিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে আবেদন করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশ। সোমবার (২২ নভেম্বর) পাঠানো আবেদনের বিষয়টি মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।
আবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা আপনার আছে। যে ক্ষমতা সংবিধান আপনাকে দিয়েছে। দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবন রক্ষায় সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করে, বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করে বাঁচার সুযোগ দিন।
এদিকে গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে আবার ঢাকায় বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয় তাকে। কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেন।
তার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার এখন বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন- চিকিৎসকরা এ একটাই পরামর্শ দিচ্ছেন।
৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার জন্য এর আগে টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া।
এর আগে এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময় এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন।
পরে করোনার টিকা নিতে তিনি দু’দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।
গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার শরীরে জ্বর দেখা দেয়। এরপর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত ২৫ অক্টোবর শরীরের টিউমার ধরা পড়ায় খালেদা জিয়ার বায়োপসি করা হয়।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনার কারণে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এখন পর্যন্ত চার বার খালেদা জিয়ার মুক্তির সময় বাড়ানো হয়েছে।
Related News
১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চের তারিখ ঘোষণা, দাবিতে নতুন দফা যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন রূপান্তরিতRead More
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তনRead More



Comments are Closed