কদমখাল-লাল শাপলা বিলের রাস্তার বেহাল দশা
মো. রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র লাল শাপলার রাজ্য ৪টি বিল। বিলে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা হল কদমখাল-লাল শাপলা বিল রাস্তা। ১০/১৫ জন চোরাকারবারির কারনে রাস্তারটির এখন বেহাল অবস্থা। এ বিষয়ে নিরবতা পালন করছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কদমখাল-লাল শাপলার বিল রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার মালিকরা ধান চাষের জন্য হাল দিয়ে রেখেছে। হয়ত কিছুক্ষনের মধ্যেই ধানের চারা রোপন করা হবে। কদমখাল, ডিবিরহাওর গ্রামের বাসিন্ধাদের সাথে কথা বলতে চাইলে কিছুই বলতে রাজি হননি তারা। শুধু একটি কথা বলেন, রাস্তটি আমাদের গ্রামবাসীদের জন্য নয়, রাস্তাটি তাদের জন্য তৈরী করা হয়েছে। তারাই রাস্তার মেরামত ও দেখা শুনা করে। কারা দেখাশুনা করে জানতে চাইলে কিছুই বলতে রাজি নন।
বিভিন্ন অনুরোধের পর গ্রামবাসীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা নিরিহ দিন মজুর ও ফিসারম্যান প্রকৃতির নিন্ম আয়ের মানুষ, এই এলাকায় বসবাস করি। গত ৭দিন পূর্বেই রাস্তার দুটি স্থান ব্যতিত আর কোথাও কোন সমস্যা ছিল না। প্রভাবশালী ১০/১৫ জন চোরাকারবারী ডিআই ট্রাক ব্যবহার করে হাজার হাজার বস্তা মটরশুটি ভারতে প্রেরণ করে অবৈধ ভাবে ভারত হতে নিয়ে আসছে কসমেট্রিক্স, শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, নিন্ম মানের চা-পাতা, বিভিন্ন ব্যান্ডের হরলিক্স, ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের মাদক দ্রব্য। মালামাল পরিবহন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে শক্তিশালী ডিআই ট্রাক।
২ কিালোমিটার গ্রামীণ রাস্তাটির প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার পুরো অংশে কাঁদায় পরিনত হয়ে জনসাধারন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা হতে ফজর পর্যন্ত এই রাস্তা ব্যবহার করে চোরাকারবারীরা।
চেরাকারবারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি তৎপর না থাকায় গ্রামবাসীরা বাঁধা দিতে গেলে অবৈধ পণ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকী ধমকী দেওয়া হয়। ইতোপূর্বে নিরিহ গ্রামবাসীদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাস্তাটি ব্যবহার করে চোরাইপণ্য আনা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানতে ভয় পান তারা।
৪৮ বিজিবি’র ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্পের কমান্ডার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি জানান, বিজিবি’র টহল জোরদার রয়েছে। আরও জোরদার করা হবে। তবে ডিবির হাওর সীমান্ত দিয়ে কোন অবৈধ কার্যক্রম হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত আজমেরী হক বলেন, চোরাচালান বন্ধে নজরদারি আরও জোরদার করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বিজিবিকে একাধিক বার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাস্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে ৮৬ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ-পণ্য জব্দ, আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও বিভিন্নRead More
কানাইঘাটে চোরাইপণ্যবাহী পিকআপের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামে পিকআপের চাকায় পিষ্টRead More



Comments are Closed