ভিনগ্রহীদের আনাগোনা যেখানে
প্রযুক্তি ডেস্ক: পৃথিবীতে এমন অদ্ভুত জায়গা আছে, যেখানে এমন সব ঘটনা ঘটে যা আমাদের বোধগম্য হওয়ারও বাইরে। তেমনি এক জায়গা হলো উত্তর মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়ান মরু অঞ্চল। এ জায়গায় নাকি রেডিও সিগন্যাল কাজ করে না, কম্পাসের কাঁটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুরতে শুরু করে।
রহস্যজনক বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সঙ্গে তুলনা করা হয় এই অঞ্চলের অদ্ভুত ঘটনাগুলিকে। ভিন্ন সময়ে এই অঞ্চল পরিদর্শনে আসা মানুষেরা বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। কেউ নাকি ভিনগ্রহীদের আনাগোনা প্রত্যক্ষ করেছেন, কেউ ওই নির্দিষ্ট জায়গায় একাধিক বার উল্কাবৃষ্টি হতে দেখেছেন। ভূতুড়ে নানাকাণ্ডের জন্যই এই অঞ্চলের নাম হয়েছে ‘জোন অব সায়লেন্স’। অর্থাৎ নীরবতার অঞ্চল।
মাত্র ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে ওই ‘জোন অব সায়লেন্স’। চার লাখ হেক্টর এই অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে বসতিহীন। ১৯৬৬ সালে এই অঞ্চলের এমন নামকরণ হয়। ওই বছর প্রিমেক্স নামে একটি তেল উৎপাদনকারী সংস্থা এই অঞ্চল পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠায়।
যে দলটি ওই এলাকায় পৌঁছেছিল তার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অগাস্ত হ্যারি দে লা পিনা নামে এক ব্যক্তি। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর পরই তার রেডিও সিগন্যাল চলে যাচ্ছে। এর কয়েক বছর পর ১৯৭০ সালে খবরের শিরোনামে উঠে আসে এর নাম। উটার গ্রিন রিভার বিমান ঘাঁটি থেকে এথেনা নামে একটি রকেট উৎক্ষেপিত হয়েছিল। নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ড এলাকায় ওই রকেটটির নামার কথা ছিল।
কিন্তু এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময়ই তা নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং জোন অব সায়লেন্সের ঠিক মাঝে ভেঙে পড়ে। ক্রমে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের পছন্দের জায়গা হয়ে ওঠে এই অঞ্চল। ওই ঘটনার পর ভন ব্রাউন নামে এক বিজ্ঞানীকে এই অঞ্চলে পাঠায় নাসা। কেন রকেটটি এখানেই ভেঙে পড়েছে তার প্রকৃত কারণ জানার জন্যই তাকে পাঠিয়েছিল নাসা। ভন সেখানে ২৮ দিন ছিলেন। ৩০০ জন কর্মী তার অধীনে কাজ করছিলেন।
এই দীর্ঘ সময় থাকার জন্য ছোটখাট একটি গ্রাম বানিয়ে ফেলেছিলেন তারা। থাকার জন্য একাধিক অস্থায়ী বাড়ি, রান্নাঘর, চিকিৎসালয় এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি রেললাইনও বানিয়ে নিয়েছিলেন। রকেটের ধ্বংসাবশেষ এবং মাটি-সহ অন্যান্য নমুনা ট্রেনে করেই গবেষণাগারে পাঠাতেন।
ভনের কাটানো ২৮ দিনই এই অঞ্চল নিয়ে একাধিক অতিজাগতিক ধারণার জন্ম দেয়। শ্রমিকদের কেউ নাকি ভিনগ্রহীদের ঘোরাফেরা করতে দেখেন তো কেউ নাকি হঠাৎ আকাশে আলোর বিচ্ছুরণ প্রত্যক্ষ করেন। তবে পরবর্তীকালে এই অঞ্চল নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটেছে।
জানা যায়, এক সময়ে এই অঞ্চলে প্রচুর উল্কাপাত হয়েছে। ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪ সালে একই জায়গায় পর পর দুটি বড় আকারের উল্কা পড়ে। এর ফলে বিশালাকার গর্তও হয়। এর কয়েক বছর পর ১৯৬৯ সালে ফের এই অঞ্চলের কিছুটা পশ্চিমে উল্কাবৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, সেই কারণেই এই অঞ্চল কিছুটা চৌম্বকত্ব লাভ করে থাকতে পারে। তবে এই অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ ঘটনাই মনগড়া। এক সময় এই অঞ্চল টেথিস সাগরে ডুবে ছিল। ফলে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক জীবের জীবাশ্ম পাওয়া যায় মাটিতে।
Related News
চার্জ না থাকায় বিদ্যুৎ বিলের টাকার জন্য ‘ভিক্ষা’ করছে রোবট!
Manual6 Ad Code তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: চীনের সিচুয়ান প্রদেশে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের। কোনো মানুষRead More
এক বছর চাঁদ-মঙ্গলে থাকতে চান? স্বেচ্ছাসেবী খুঁজছে নাসা
Manual7 Ad Code তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: চাঁদ বা মঙ্গলে মানুষের জীবন কেমন হতে পারে, তা বাস্তবেরRead More



Comments are Closed