মারা গেলেন হার্ট অ্যাটাকের শিকার পাইলট নওশাদ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভারতের নাগপুর বিমানবন্দরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে জরুরি অবতরণ করা বাংলাদেশ বিমানের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউম মারা গেছেন। রোববার (২৯ আগস্ট) নাগপুর হোপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এরআগে ২৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে ওমানের মাস্কাট থেকে বিজি-০২২ ফ্লাইটটি নিয়ে ঢাকা আসার পথে ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম ‘হার্ট অ্যাটাক’ করেছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত মৃতদেহ দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এর আগে, গতকাল শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহেরা খন্দকার বলেছিলেন, মাঝ আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথেই পাইলট কাইউম কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময়ে তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।
তিনি আরও জানান, কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে সেখানে অবতরণ করান। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমানটির ১২৪ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই নিরাপদে ছিলেন। জরুরি অবতরণের পর পাইলট কাইউমকে নাগপুরের হোপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে তার এনজিওগ্রাম করা হয়।
এদিকে শুক্রবারই আরেকটি ফ্লাইটে করে আট সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল নাগপুরে যায়। মধ্যরাতের পর বিমানটিকে যাত্রীসহ ঢাকার বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়।
বাংলাদেশ পাইলট এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি একজন দক্ষ পাইলট। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়া সত্তেও তিনি দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তার প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমান সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার রাতেই কাইয়ুমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ রবিবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৪৯ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ
নওশাদ ও তার ফার্স্ট অফিসারের কারণে এবার জীবন রক্ষা পেয়েছে ওমান থেকে ঢাকার উদ্দেশে আসা ১২৪ যাত্রীর। তবে এটি প্রথম নয়। পাঁচ বছর আগে এভাবেই আরও ১৪৯ যাত্রী আর সাত ক্রুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ। পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২২ ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন ছিলেন নওশাদ। সেই ফ্লাইটটি মাস্কাট বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টেক-অফ করার পর মাস্কাট বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ক্যাপ্টেনকে জানানো হয়, রানওয়েতে টায়ারের কিছু অংশ পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত বিমান এয়ার ক্রাফটের হতে পারে।
সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকায় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নওশাদ ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের আগে ক্যাপ্টেন ফ্লাইটটি নিয়ে রানওয়ের ওপর দিয়ে দুইবার লো-লেভেলে ফ্লাই করেন। তখন দেখা যায়, উড়োজাহাজের পেছনের দুই নম্বর টায়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ক্যাপ্টেন নওশাদ উঁচু মানের দক্ষতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত টায়ার ও ল্যান্ডিং গিয়ারসহই নিরাপদে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
এ ঘটনার পর ২০১৭ সালে ক্যাপ্টেন নওশাদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রশংসাপত্র পাঠায় আন্তর্জাতিক পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যাপ্টেন রন অ্যাবেল।
ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম ২০০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট হিসেবে যোগদান করেন।
Related News
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০টি শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ঘোষণাRead More
দেশের ১৪ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ রাতের মধ্যে দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণRead More



Comments are Closed