ইংল্যান্ডে করোনার সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে আজ সোমবার করোনার অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
কতজন মানুষ একসঙ্গে দেখা করতে পারবেন বা কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন, সে-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এখন আর থাকছে না। নৈশ ক্লাব খুলতেও থাকছে না বাধা।
কিছু কিছু জায়গায় মাস্ক পরতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
সারা বিশ্বে করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সমালোচনা করছেন।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। গ্রীষ্মের শেষ দিকে দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে দুই লাখে পৌঁছাতে পারে বলে কিছু বিজ্ঞানী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁর সংস্পর্শে আসায় স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক। যুক্তরাজ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সময় ১৮ জুলাই রোববার বিকেলে বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, বিধিনিষেধ থেকে বেরিয়ে আসার এখনই সঠিক সময়।
বরিস বলেন, এখন যদি তাঁরা এটা না করেন, তাহলে নিজেদের কাছে প্রশ্ন করতে হবে যে আর কখনো কি তারা বিধিনিষেধ তুলে নিতে পারবেন?
এ প্রসঙ্গে বরিস বলেন, শরৎ ও শীতকালের ঠান্ডা আবহাওয়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
বরিস আরও বলেন, কাজটি তাঁদের সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। তাঁদের মনে রাখতে হবে যে এখনো করোনার সংক্রমণ চলছে। শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডেলটা ধরনের কারণে সংক্রমণের তীব্রতা দেখা যেতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ফলে ঝুঁকি বাড়বে—বিশেষজ্ঞদের এমন সতর্কতার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির স্বাস্থ্যবিষয়ক মুখপাত্র জোনাথন অ্যাশওর্থ। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছে।
বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি জেরেমি হান্ট। তিনি বলেছেন, সরকারকে ইসরায়েল ও নেদারল্যান্ডস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। সেখানে করোনার বিধিনিষেধ শিথিল করার পর সংক্রমণ বেড়ে যায়। ফলে আবার নতুন করে তা জারি করতে হয়।
যুক্তরাজ্যে গতকাল রোববার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৮ হাজার ১৬১ জন। মারা গেছেন ২৫ জন। এর আগে শুক্র ও শনিবার দেশটিতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়।
এদিকে করোনা টিকাদানের দিক দিয়ে যুক্তরাজ্য বেশ এগিয়ে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ টিকার কমপক্ষে একটি ডোজ পেয়েছেন। আর দুটি ডোজই পেয়েছেন ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাদের শিগগির টিকাদান শুরু হতে পারে।
Related News
ফ্রান্সে জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার বিশেষ ছুটি
Manual3 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব ও যুগান্তকারীRead More
পাকিস্তানে খাদে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে গেল বাস, নিহত ৪০
Manual7 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। দেশটির বেলুচিস্তান ও খাইবারRead More



Comments are Closed