Main Menu

বিশ্বনাথে পুলিশ পরিচয়ে যুবককে অপহরণের চেষ্টা, আটক ২

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের পরিচয় দিয়ে যুবককে অপহরণকালে অপহরণকারী ২জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন জনতা। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পুরাতন হাবড়া বাজার এলাকায় এঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলো বিশ্বনাথ উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের মাশুক মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া (২৮) ও একই গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে আফজাল মিয়া (৩০)।

অপহৃত যুবকের নাম রিপন আলী (২৮)। তিনি উপজেলার উত্তর দশপাইকার গ্রামের আসদ আলীর ছেলে। রিপন আলী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী।

অপহৃত রিপন আলী জানান, তিনি শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথিমধ্যে হাঠাৎ করে তাকে ঝাপটে ধরে মারধর শুরু করেন তার প্রতিবেশী মৃত সহর উল্লাহর পুত্র আব্দুল মতিনসহ ৫/৬ জন লোক।

এসময় মারুফ মিয়া ও আফজাল মিয়া নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে (রিপনকে) ঝাপটে ধরে তার মুখে কস্টিপ লাগিয়ে ও হাত বেঁধে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় (সিলেট-থ ১১ ৭১৩৭) উঠায়। এরপর ওই অটোরিকশাটি হাবড়া বাজারের দিকে যেতে থাকে এবং কিছুদূর যাওয়ার পর তারা রিপনকে নাম্বার বিহীন অন্য আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠায় এবং গাড়িটি পুরাতন হাবড়া বাজার পৌছলে রিপন আলী তার হাত ও মুখ বাঁধা থাকায় পা দিয়ে স্বজোরে গাড়িতে লাথি দিতে থাকলে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় স্থানীয় লোকজনদের।

এসময় স্থানীয় জনতা অপহৃত রিপন আলীসহ অপহরণকারী মারুফ ও আফজালকে আটক করেন। তখন গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় সিএনজি অটোরিকশার চালক। ঘটনার খবর পেয়ে মুহুর্তের মধ্যেই এলাকার কয়েক শতাধিক লোক জড়ো হন পুরাতন হাবড়া বাজারে। এরপর অপহৃত যুবক রিপন আলীসহ আটককৃত দুইজনকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন জনতা।

আটককৃত মারুফ মিয়া এই প্রতিবেদককে জানায়, অপহৃত রিপন আলীর প্রতিবেশী আব্দুল মতিন (৪৫) সম্পর্কে তার (মারুফের) ভগ্নিপতি। কিছুদিন পূর্বে আব্দুল মতিনের বসতঘরে চুরি সংঘটিত হয়। ওই চুরির ঘটনার সাথে রিপন আলী জড়িত থাকার কথা আব্দুল মতিনকে জানান কথিত এক পীরানী। এতে রিপন আলীর উপর ক্ষিপ্ত হন প্রতিবেশী আব্দুল মতিন গংরা। আর চুরির মালামাল উদ্ধার করতে রিপন আলীকে অপহরণের পরিকল্পনা নেন আব্দুল মতিন। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে ইফতারি নিয়ে ভগ্নিপতি আব্দুল মতিনের বাড়িতে যান মারুফ ও তার চাচাতো ভাই আফজাল এবং তারা সেখানে অবস্থান করে নিজেদের ইচ্ছে না থাকা সত্বেও তারা ভগ্নিপতি আব্দুল মতিনের পরিকল্পনায় রিপন আলীকে অপরহণ করতে বাধ্য হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিলো রিপন আলীকে থানায় নিয়ে আসবে এমনটাই পুলিশকে জানায় মারুফ ও আফজাল।

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামীম মুসা বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

 

Share





Related News

Comments are Closed