ইবি’র সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে চড় মারার অভিযোগ
শাহাব উদ্দীন ওয়াসিম, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীকে চড় মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আবাসিক হল সংলগ্ন রাস্তার আমগাছ থেকে আম পাড়ার অভিযোগে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এসময় ঐ শিক্ষার্থী এবং বিভাগের এক মেয়েকে (ঐ শিক্ষার্থীর স্ত্রী) বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে আটকে রাখা হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম এসে ঘটনাটি সমাধান করেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের হাসান নামের এক শিক্ষার্থী (২০১৯-২০ মাস্টার্স) তার স্ত্রীসহ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। তারা পার্শ্ববর্তী শেখপাড়াতে একটা ভাড়া বাসা নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। ক্যাম্পাসের মফিজ লেক পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে কিছু শাক সবজি নিয়ে তারা মেয়েদের হল সংলগ্ন এলাকায় আসেন। এসময় হাসান ইফতারির পর খাওয়ার জন্য কিছু আম পাড়তে রাস্তার পাশের একটি আমগাছে ওঠেন। এসময় গাছের নিচে হাসানের স্ত্রী ও তাদের বাড়িওয়ালার মেয়ে (৯ বছর) আম কুড়াচ্ছিল। হাসান গাছে থাকা অবস্থায় সহকারী প্রক্টর আরিফ শিক্ষক কোয়ার্টার থেকে সেদিকে যান। এসময় তিনি গাছে কে? কে আম পাড়ে ইত্যাদি প্রশ্ন করেন। জবাবে হাসান ও তার স্ত্রী বলেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তাদের বিভাগের ও সেশনের পরিচয় দেন। এসময় সহকারী প্রক্টর আরিফ ঐ শিক্ষার্থীকে (হাসানকে) বকাঝকার এক পর্যায়ে থাপ্পড় মারেন এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে তিনজনকেই আটকে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী হাসান বলেন, “আমি যখন গাছ থেকে আম পাড়ছিলাম তখন আরিফ স্যারের কণ্ঠ শুনতে পাই। তিনি এসে কে রে তুই আম পাড়িস?, নাম গাছ থেকে। এসময় আমি গাছ থেকে নেমে আসি। তিনি বলেন তোরা আম পাড়লি কেন? কারা তোরা? এসময় আমরা আমাদের বিভাগ ও সেশনের পরিচয় দেই। তখন তিনি বলেন তোরা আমসহ দাঁড়া তোদের ছবি তুলবো এবং কাকে যেন ফোন দিলেন। আমি তখনও জানতাম না তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমরা বললাম আমাদের ভুল হয়েছে আর কোনদিন আম পাড়বো না। এরপর তিনি বলেন তোরা কি ক্যাম্পাসে অরাজকতা পাইছিস? তোদের জন্য ক্যাম্পাসে কোন কিছু থাকে না ইত্যাদি। একপর্যায়ে তিনি আমাকে একটি চড় মারেন এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আনছারকে ডেকে আমাদের হলের ভিতর আটকে রাখেন। এসময় আমরা একাধিকবার তার কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও তিনি আনছারকে তার একটা মিটিং আছে বলে কোথায় যেন চলে যান। কিছুক্ষণপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম স্যার আসেন এবং সমস্ত বিষয় শোনেন। আমরা ক্যাম্পাসে ঘুরছিলাম এটা তিনি ঐ ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও দেখেছিলেন। আমি এসময় শফিকুল ইসলাম স্যারের কাছে জিজ্ঞাসা করি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা ক্যাম্পাসের ফল খেতে পারি কিনা? তিনি বলেন অবশ্যই ক্যাম্পাসের ফল তো তোমাদের জন্যেই। এসময় তিনি আরিফ স্যারকে ডেকে আমাকে মারা ঠিক হয়নি বলেন। আরিফ স্যার ঐ সময় স্বীকার করেন যে তিনি রাগের মাথায় আমাকে মেরেছেন। পরে শফিকুল ইসলাম স্যার আমাদেরকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বলেন এবং বিষয়টি ওখানেই মিটিয়ে দেন।
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনাটি জানতে চাইলে প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি সকালেই অন্য একটি মাধ্যমে সংবাদটি জানতে পারি এবং ঘটনাটির তাৎক্ষনিক সমাধানের জন্য সহকারী প্রক্টর শফিককে সেখানে পাঠিয়েছি। আসলে সহকারী প্রক্টর আরিফ যে কাজটি করেছেন সেটি মোটেই ঠিক হয়নি। ইতোমধ্যে ঐ ছাত্র ওয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য আমাকে একটি আবেদনপত্র পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আগামীকাল বসবো।”
Related News
সাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টারRead More
অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা, ঝিনাইদহে গ্রেপ্তার ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঝিনাইদহের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে ইলিশ মাছ, জুতা, বাচ্চাদের খেলনা, ফার্নিচারসহRead More



Comments are Closed