Main Menu

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত দুই লক্ষাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস। দেশটিতে একদিনেই রেকর্ড দুই লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে হাজারের ওপরে। মরদেহ সৎকারে হিমশিম খাচ্ছে শ্মশান ও গোরস্থান কর্তৃপক্ষ। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দেশটিতে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ শনাক্ত। মহামারি নিয়ন্ত্রণে মহারাষ্ট্রে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনসহ বিভিন্ন রাজ্যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ লাখ ৭৩৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ১ হাজার ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনের হিসাবে গত ১৬ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। দেশটিতে করোনায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ভারতের তিন রাজ্য— মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব ও ছত্তিশগড়ে সবচেয়ে বেশি করোনার সংক্রমণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মহারাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই ১৫ দিনের কারফিউ জারি হয়েছে। সরকার লকডাউনের পথে হাঁটবে কিনা এ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

কে বলবে করোনা মহামারি চলছে? ভারতে একদিনেই রেকর্ড ২ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কুম্ভমেলায় শুচিস্নানে মেতে ওঠেন লাখ লাখ মানুষ। জরিমানা করেও তাদের দমাতে পারছে না পুলিশ। উত্তরাখণ্ডের এই কুম্ভমেলাকে করোনা বিস্তারের মহোৎসব বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মহামারি কেন্দ্র হয়েছে উঠেছে ভারতের অন্যতম ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্র। বুধবার রাত থেকে এরই মধ্যে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন জারি করেছে রাজ্যটির সরকার। জনসমাগম হয় এমন স্থানে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন মানাতে বুধবার থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীকে রাস্তায় টহল দিতে দেখা যায়। তবে লকডাউনের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতির চরম অবনতির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের কারণে ২০ লাখের বেশি ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকার এই বিষয়টি বিবেচনা করছে না।

ভারতীয় এক উদ্যোক্তা বলেন, আমাদের এখন আবার কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। আমরা আগের ক্ষতিই এখনো পুষিয়ে উঠতে পারিনি। এখনো আমরা কর্মীদের ৫০ শতাংশ বেতন দিচ্ছি। পুরো বেতন দেওয়ার মতো সক্ষমতায় আমরা এখনো ফিরে আসতে পারি নাই।

আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ায় বিভিন্ন শ্মশান ও গোরস্থান কর্তৃপক্ষকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া কর্ণাটকে রেকর্ড আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। দিল্লির হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট।

এদিকে আক্রান্ত ও মৃতের দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি নেই। দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে ব্রাজিলের। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নাজুক অবস্থা পোল্যান্ডের।

Share





Related News

Comments are Closed