সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিশেষজ্ঞের পরামর্শে করোনা থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতেই ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সব সময় জনগণের পাশেই রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাংলা নববর্ষ-১৪২৮ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন-জীবিকায় কিছুটা অসুবিধা হলেও মহামারি থেকে রক্ষা পেতে বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। অর্থনীতি যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ চলছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককেই টিকা দেয়া হবে।
বাঙালির সার্বজনীন এক উৎসব পহেলা বৈশাখ। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বর্ণিল লোকাচারে মানুষ আবাহন করে নতুন বছরকে। স্বজাত্যবোধ ও বাঙালিয়ানা জানান দেয়ার এই উৎসব এবারও অতিমারির কালো ছায়ায় ধূসর। নতুন উদ্যোমে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জাগানিয়া ছায়ানট, চারুকলা ঠিক নিস্তব্ধ না হলেও বিধিনিষেধের বেড়াজালে সীমিত সবকিছু।
মহামারির এই দুঃসহ সময়ে বর্ষবরণের আগের সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ নিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈরী এই পরিস্থিতিতে সাবধানতা মেনে ঘরে বসেই সবাইকে উৎসব করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় ধাপের করোনা ভাইরাসের আরও মরণঘাতি হয়ে আবিভূত হয়েছে। তাই পহেলা বৈশাখের আনন্দ গত বছরের মতো এবারও ঘরে বসেই উপভোগ করবো আমরা। অতীতের সব জঞ্জাল গ্লানি ধুয়ে মুছে আমরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করবো।
ভাষণে উঠে আসে করোনার ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনোভাবেই সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আমাদের আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। আমি জানি এর ফলে অনেকেরই জীবন জীবিকার অসুবিধা হবে। কিন্তু আমাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে মানুষের জীবন সর্বাগ্রে, বেঁচে থাকলে আবারও সব কিছু গুছিয়ে নিতে পারবো।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিম্নবিত্তের জন্য সহায়তার কার্যক্রম নেবে বলেও জানান সরকার প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন জীবিকা যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে আমরা কঠোর দৃষ্টি রাখছি। আপনারদের সঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত হানার পর দরিদ্র মানুষের জন্য সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছি।
দেশের প্রতিটি নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূলতা জয় করেই বাঁচতে হবে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে বর্তমান বিশ্ব বিপর্যস্ত। সে কারণে গত বছরের মতো এ বছরও আমাদেরকে সীমিতভাবে সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে বাংলা নববর্ষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে উদযাপনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়িত ঐতিহ্য। বাঙালির আত্মপরিচয় ও শেকড়ের সন্ধান মেলে এর উদযাপনের মধ্য দিয়ে। পহেলা বৈশাখের দিকে তাকালে বাঙালি তার মুখচ্ছবি দেখতে পায়। বৈশাখ আমাদের নিয়ে যায় অবারিতভাবে বেড়ে ওঠার বাতায়নে, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে, অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে ঔপনিবেশিক শক্তি বাঙালির ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করতে চেয়েছে। বাঙালিরা দুর্বার প্রতিরোধে আত্মপরিচয় ও স্বীয় সংস্কৃতির শক্তিতে তা প্রতিহত করেছে। সেই শক্তিকে ধারণ করে শামিল হয়েছে মুক্তির সংগ্রামে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিলিত স্রোত পরিণত হয়েছে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে। এভাবেই বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নববর্ষের- এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন। এই পথ বেয়ে বিশ্বসমাজে বাঙালি হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ জাতি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এ বছর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা এ বছর আমরা উদযাপন করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এরই ধারাবহিকতায় আগামী বছর আমরা উদযাপন করবো মহান ভাষা আন্দোলনের হীরকজয়ন্তী। বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, বাঙালি বীরের জাতি হিসেবে তার অর্জন ও অগ্রগতি চির ভাস্মর হয়ে থাকবে যুগ যুগান্তর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রের ভাবাদর্শে আজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন তারও মূলমন্ত্র জাতিগত ঐতিহ্য ও অহংকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শেও মূলসূত্র নিহিত আছে জাতিগত বিকাশ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধিতে। সেই আদর্শে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, দেশ পুনর্গঠনে কাজ করেছে তাঁর অভিন্ন চেতনা।
‘একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ তথা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ তথা সুখী-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবারের বৈশাখ হবে আমাদের জন্য বিপুল প্রেরণাদায়ী’ বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাবো – এবারের নববর্ষে এ হোক আমাদের প্রত্যয়ী অঙ্গীকার।
Related News
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেনRead More
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মোটরসাইকেলের সামনের অংশে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা দেড় মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়কRead More



Comments are Closed