Main Menu

‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ টিকা রপ্তানি করবে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে তৈরি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকা ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) রাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে টিকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তাদের সরকার দিয়ে আসছিল, তা এখনও অটুট রয়েছে।

তিনি বলেছেন, আমাদের এখানে টিকা দেওয়া দেওয়া শুরু হলেই ১৫ দিনের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। এর মধ্যে কিছু টিকা আমরা উপহার হিসেবে দেব। বাকি টিকা রপ্তানি করা হবে আমাদের সরকার যে দামে টিকা কিনবে, মোটামুটি সেই দামেই।

ভারতীয় ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত প্রতিবেশীদের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি, সে বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন আছে।’

এ মাসের মাঝামাঝি নাগাদ নাগরিকদের টিকা দেওয়া শুরু করা যাবে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন।

একই সঙ্গে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী অফিসার আদার পুনাওয়ালার যে বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল, তিনিও বিবিসিকে জানিয়েছেন যে ভারতে বা বিদেশে বেসরকারি কোন সংস্থার কাছে টিকা বিক্রি না করতে পারলেও যে কোনও দেশের সরকার পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি রপ্তানির ওপরে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

সেই হিসাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের কাছে টিকা রপ্তানি করতে কোনরকম বাধা থাকছে না, কারণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে ভারত থেকে কোভিড টিকা আনার ব্যবস্থাটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো করলেও টিকাদান কর্মসূচির অর্থায়ন ও পরিচালনা সরকারই করবে।

সিরাম ইনস্টিটিউট বিবিসিকে জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ, সৌদি আরব ও মরক্কোয় তারা টিকা পাঠানোর কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করতে পারবে বলে আশা করছে।

দু’দিন আগে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুনাওয়ালা বলেছিলেন, তারা ভারতে শুধুমাত্র জরুরি ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছেন এই শর্তে যে তারা বেসরকারি বাজারে এটি বিক্রয় করতে বা এটি রপ্তানি করতেও পারবে না।

রপ্তানি নিয়ে তার মন্তব্যের পর বিভ্রান্তি তৈরি হলে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি টুইট করে জানান যে সব দেশে টিকা রপ্তানির অনুমতি তাদের আছে।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারেও মি. পুনাওয়ালা বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে টিকা ব্যবহারের যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তার শর্ত অনুযায়ী আমরা দেশে বা বিদেশে কোনও বেসরকারি সংস্থার কাছে ভ্যাকসিনটি বিক্রি করতে পারব না। কিন্তু কোনও দেশের সরকারি টিকাদান কর্মসূচির জন্য ভ্যাকসিন পাঠাতে পারব।’

বিশ্বে উৎপাদিত করোনার টিকার মধ্যে ৬০ শতাংশ উৎপাদন করছে ভারত। অনেক দেশই ভারতের কাছ থেকে টিকা নিতে আগ্রহী। দেশটি ইতিমধ্যে জরুরি ব্যবহারের জন্য করোনার দুটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এর একটি হলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকা। যেটা উৎপাদন করছে সেরাম ইনস্টিটিউট। অন্য টিকাটি তৈরি করেছে ভারতীয় কোম্পানি ভারত বায়োটেক।

Share





Related News

Comments are Closed