Main Menu

সিলেটে রায়হানের লাশ কবর থেকে উত্তোলন

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে ‘পুলিশী নির্যাতনে’ নিহত রায়হান আহমদের লাশ (৩৪) কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। প্রায় ২ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমেদ ও মেজবাহ উদ্দিনের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের পর পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পুলিশের পাহারায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Manual3 Ad Code

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমদ ও মেজবাহ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে আখালিয়া নবাবী মসজিদ কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। পিবিআই টিমের পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজের কয়েকজন ডোমও সেখানে এসেছেন। লাশ উত্তোলনের পর লাশের পুন:ময়না তদন্ত হবে।

স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানের নেতৃত্বে এলাকাবাসী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিলর কামরান লাশ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Manual7 Ad Code

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট জেলা পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়হান নামের এক যুবকের লাশ তুলা হয়েছে। লাশ তুলার পর সুরতহাল করা হয়। এরপর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়। সেখানে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের পর তার ময়নাতদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ এই হত্যা মামলায় অজ্ঞাতদের গ্রেফতার করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তদন্তকালিন সময়ে যাদের সংশ্লিষ্টতা পিবিআই পাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Manual7 Ad Code

জানা গেছে, পুণরায় ময়না তদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতেই রায়হান আহমদের মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে বর্তমানে এই মামলাটির তদন্ত করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতেই এই মামলার নথি পিবিআই\’র কাছে হস্তান্তর করে এসএমপি।

প্রসঙ্গত, নিহত রায়হান আহমদ আখালিয়া নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র। রায়হান সিলেট নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরি করতো। গত ১০ অক্টোবর শনিবারও সে যথারীতি দায়িত্ব পালন করে। ওইদিন রাতে সে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা ছিলেন উদ্বেগে।

Manual7 Ad Code

নিহতের চাচা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, রোববার ভোররাত চারটার দিকে রায়হান একজন পুলিশ সদস্যের ফোন দিয়ে তার মায়ের মোবাইল নম্বরে কল করে বলে, ‘আমারে বাঁচাও, ১০ হাজার টাকা লইয়া তাড়াতাড়ি ফাঁড়িতে আও।’ এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। মো. হাবিবুল্লাহ দাবি করেন, খবর পেয়ে নগরীর কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে পাশে ফাঁড়িতে রায়হানের সন্ধানে গেলে ডিউটিরত কনস্টেবল তাকে জানান- ‘সবাই ঘুমে। সকালে আসেন।’ এ সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ফাঁড়িতে যেতে বলা হয়। হাবিবুল্লাহর দাবি, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ বলে রায়হান অসুস্থ। ওসমানী মেডিকেলে যান। এরপর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে এসে দেখেন রায়হানের লাশ হিমাগারে রাখা। হাবিবুল্লাহ দাবি করেন, রায়হানের পায়ের তলা ও হাঁটুর নিচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফাঁড়ির ভেতর পুলিশ নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ তার। এ ঘটনায় গত রোববার দিবাগত রাত আড়াইটায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code