Main Menu

রায়হান হত্যা: বিপুল সম্পদের মালিক এসআই আকবর!

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘পুলিশের নির্যাতনে’ রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় এখন নিজ গ্রামেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া। আকবরের নেতৃত্বেই নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন আকবর।

Manual4 Ad Code

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে আকবরের। কীভাবে দ্রুত তিনি এতো সম্পদের মালিক হয়েছেন সেই আলোচনা এখন গ্রামের সবার মুখে। অনেকেই পুলিশ কর্মকর্তা আকবর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগৈর গ্রামে। বাবা জাফর আলী ভূইয়া স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হন জাফর আলী। এরপর স্কুল থেকে চাকরিচ্যুত হন তিনি। আর মামলায় জড়ানোর পর সহায়-সম্পদ যা ছিলো- তা সবই খুইয়েছেন জাফর আলী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৩ সালে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৫ সালে উপজেলার ফিরোজ মিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন আকবর। এরপর ২০০৭ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে চকরি নেন তিনি। কয়েক বছর চাকরি করার পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে চাকরির জন্য পরীক্ষা দেন আকবর। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এসআই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে আকবর ও তার পরিবারের ভাগ্য।

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় আকবর। পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর নিজ গ্রামে বাড়ি ও জায়গা-জমিসহ অঢেল সম্পদ গড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুরনো ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে আলিশান বাড়ি। ইতোমধ্যে বাড়ির প্রথম তলার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে আধুনিক ফটক তৈরির কাজ। পুলিশে চাকরির বদৌলতে বাবার খোয়ানো সব সম্পদই যেন ফিরে এসেছে আকবরের হাত ধরে।

বগৈর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পুলিশে চাকরি হওয়ার পরই অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আকবর। তিনি যে ঘটনা ঘটিয়েছেন সেটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং আশুগঞ্জের মানুষের জন্য কলঙ্ক। তাই আশুগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ির ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের ছোট ভাই আরিফ ভূইয়া বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আমার ভাই এ ধরণের কাজ কখনোই করতে পারে না। আমরাও চাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমার বিশ্বাস, আমার ভাই কখনো টাকার জন্য কাউকে মারতে পারে না।

Manual3 Ad Code

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, আকবর যে ঘটনা ঘটিয়েছেন- সেটি পুরো আশুগঞ্জের জন্য লজ্জাজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আকবর যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

Manual1 Ad Code

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রায়হানকে ধরে এনে টাকার জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন আকবর।
সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

Manual5 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code