Main Menu
শিরোনাম
শাবির ল্যাবে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে একদিনে নতুন শনাক্ত ২৪ জন, সুস্থ ৪১         কমলগঞ্জে হামলায় সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য আহত         জামালগঞ্জ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী ইকবাল বিজয়ী         হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার         শ্রীমঙ্গলের ভূনবীরে নৌকা, মির্জাপুরে ধানের বিজয়         নবীগঞ্জে ‘বিকাশ’ প্রতারককে আটক করল জনতা         সাদিপুরে নৌকার প্রার্থী কবির উদ্দিন বিজয়ী         সিলেটে একদিনে সুস্থ ৬৪ জন, শনাক্ত ২১         হবিগঞ্জে চলছে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট         মৌলভীবাজারে ভূয়া ডাক্তার দম্পতিকে জেল-জরিমানা         তামাবিল সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩        

এমসিতে গণধর্ষণ: নিউইয়র্ক প্রবাসীদের প্রতিবাদ বিবৃতি

প্রবাস ডেস্ক: আমরা প্রবাসে বসবাসকারী লেখক, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সহ নানা পেশার ব্যক্তিবর্গ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, দেশে ধারাবাহিক ধর্ষণ-হত্যা-গুম-খুন. লুটতরাজ ও অরাজকতা সমগ্র সমাজ জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পতিত। বার বার একটার পর একটা ঘটনা ঘটে চলেছে, কোন ঘটনারই যথাসময়ে যথযথ বিচার হয় না, হচ্ছে না। অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। কোথাও অপরাধী ধরা পড়লেও দুর্নীতিবাজ পুলিশ ও প্রশাসনের অনৈতিক যোগসাজশে অপরাধী খালাস পেয়ে যায়। কোথাও সরকারী দলের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাড় পেয়ে আশকারা পাচ্ছে। কোথাও বিচারহীনতা ও মামলার দীর্ঘস্থায়ীয় অপরাধী পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে সাহস ও ইন্ধন পাচ্ছে।

লক্ষণীয় ব্যাপার, প্রতিটি ঘটনার সাথে সরকারী দলের নেতাকর্মী ও দলীয় লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ উঠতে দেখা যায়। ফলে সরকার দলীয় ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয়, অনৈতিক ও অহেতুক হস্তক্ষেপ এবং প্রভাবের কারণে বহুক্ষেত্রে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণে অপারগ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি সিলেট এমসি কলেজে দল বেঁধে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের এমনি অসহায়ত্বের ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। করোনার কারণে গত মার্চ থেকে কলেজ ও হোস্টেল বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সরকার দলীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সাইফুর রাহমানের নেতৃত্বে কিছু সরকার দলীয় ছাত্র নামধারীরা হোস্টেলের কয়েকটি রোম অন্যায়ভাবে জবরদখল করে আছে। অধ্যক্ষ নোটিশ দিয়ে, পুলিশের সহায়তা নিয়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে পারেননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে পানি ও বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। অধিকন্তু অবৈধভাবে লাইন সংযোগ করে দখলদারী অব্যাহত থাকে।

এমনি এক পর্যায়ে সম্প্রতি সদ্য বিবাহিতা জনৈকা মহিলা স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে হোস্টেল দেখতে যান। আগেই বলা হয়েছে হোস্টেল বন্ধ রয়েছে, কোন ছাত্র হোস্টেলে নেই। স্বাভাবিকভাবে হোস্টেলের আশপাশে জনচলাচলও কম। পারিপাশ্চিক পরিবেশ নীরব ও শান্ত। এই সুযোগে দখলকৃত রুমের ছাত্র নামধারীরা জোরপূর্বক দর্শনার্থী স্বামী স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যায় তাদের রুমে। সেখানে স্বামীকে বেঁধে রেখে সবাই মিলে পালাক্রমে নববধুকে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশের রিপোর্টে জানা গেছে অভিযুক্তরা মোট ৬জন। স্বামী স্ত্রী ছাড়া পাওয়ার পর থানায় মামলা করলে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালায়। ইতিমধ্যে দখলকৃত সাইফুরের রুম থেকে পুলিশ বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ধর্ষিতা মেয়ে বর্তমানে ওসমানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা তার তীব্র নিন্দা এবং আসামীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

দ্বিতীয়ত, আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি, যখনই সরকার দলীয় কোন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর উঠেছে, তখনই তাদের সাথে সংশ্লিষ্টদের সংশ্রব অস্বীকার করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকার দলীয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জানিয়েছে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কোন নেতা নয়। অথচ কলেজ অধ্যক্ষ সরকারী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আরও লক্ষণীয় হলো এখন পর্যন্ত স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে দেখা যায়নি। এমনকি তার কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। ঘটনা ঘটার তিন দিন হতে চলেছে এখন পর্যন্ত পুলিশ অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ পত্রপত্রিকার খবর হলো, অভিযুক্তরা প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের ছবি পত্রপত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে কার বা কাদের এবং কোন শক্তির প্রভাব বা ক্ষমতার জোরে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে সাহস পাচ্ছে।

এমসি কলেজ একটি পুরাতন ঐতিহ্যবাহী কলেজ। অতীতে কলেজের ইতিহাসে এমন কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। আমরা বিবৃতিকারীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এবং অনতিবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিদাতারা হলেন- সৈয়দ মুজিবুর রহমান, প্রাক্তন অধ্যাপক মৌলবীবাজার কলেজ, মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক সাবেক সম্পাদক যুগভেরী ও বাংলা পত্রিকা, ইব্রাহিম চৌধুরী, সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা, সুব্রত বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শাহাবউদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি (বাসদ), আব্দুল মুছব্বির, সভাপতি বাংলাদেশ জাসদ, শাহান খান, সম্পাদক, বাংলাদেশে জাসদ, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, সভপতি (জাসদ ইনু), নুরে আলম জিক, সাধারণ সম্পাদক (ইনু), এমাদ চৌধুরী ও আব্দুর রহিম যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা মুক্তাদির স্মৃতি পরিষদ, আলীম উদ্দিন, সেক্রেটারী, প্রোগ্রেসিভ ফোরাম, কাশেম আলী, সাবেক ছাত্রনেতা বৃন্দাবন কলেজ ও সদস্য প্রোগ্রেসিভ ফোরাম, সৈয়দ ফজলুর রহমান, বেন-এর প্রাক্তন সম্মপাদক, শামসাদ হুসাম চৌধুরী, সভাপতি মহিলা পরিষদ, সাংবাদিক ও লেখক, মুকিত চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা, রহমান মাহবুব, তোফাজ্জল লিটন, সাংবাদিক, ইশতিয়াক রুপু, লেখক ও সাংবাদিক, রোমানা লেইস, মাহানা বেগম, রওশন হক, শেলী জামান খান, রোকেয়া দীপা, ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি লেখক, শাহ আহমেদ, সৈয়দ উতবা, সৈয়দ মাসুদুল কবির, এম বি তুষার, আবু, জুয়েল চৌধুরী, মামুন আহমেদ, মইনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

0Shares





Related News

Comments are Closed